Welcome to GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) Ghoralia, Santipur, Nadia, West Bengal-741404, Mobile: 8926495022 email: geohubghoralia@gmail.com

Diable copy paste

Showing posts with label Exclusive Article. Show all posts
Showing posts with label Exclusive Article. Show all posts

Friday, 24 July 2020

ভারতের জাতীয় পতাকা



        ভারতের জাতীয় পতাকা হলো কেন্দ্রে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল "অশোকচক্র" সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এটি ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকার মর্যাদা লাভ করে। ভারতে এই পতাকাটিকে সাধারণত "ত্রিরঙ্গা পতাকা" বা "ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা" বলা হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া কৃত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের "স্বরাজ" পতাকার ভিত্তিতে এই পতাকাটির নকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

        আইনত, কেবলমাত্র খাদিবস্ত্রেই জাতীয় পতাকা প্রস্তুত করার নিয়ম রয়েছে। ভারতীয় মানক ব্যুরো এই পতাকা উৎপাদনের পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন স্থির করে দেয়। উৎপাদনের অধিকার খাদি উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্প কমিশনের হাতে ন্যস্ত। এই কমিশন বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীকে উৎপাদনের অধিকার দিয়ে থাকে। ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটক খাদি গ্রামোদ্যোগ সংযুক্ত সংঘ জাতীয় পতাকার একমাত্র উৎপাদক।

        পতাকার ব্যবহারবিধি "ভারতীয় পতাকাবিধি" ও জাতীয় প্রতীকাদি সংক্রান্ত অন্যান্য আইন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। পুরনো বিধি অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবসসাধারণতন্ত্র দিবস সহ অন্যান্য জাতীয় দিবস ছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন না। ২০০২ সালে, এক নাগরিকের আপিলের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে পতাকাবিধি সংস্কারের নির্দেশ দেন। সেই মতো ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট পতাকাবিধি সংস্কার করে কয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকার ব্যবহার অনুমোদিত করে। ২০০৫ সালে পতাকাবিধি পুনরায় সংশোধন করে কয়েকটি বিশেষ ধরনের বস্ত্র ব্যবহারের অতিরিক্ত ব্যবস্থা করা হয়।

নকশা:

        নিচে বিভিন্ন বর্ণ মডেল অনুসারে ভারতীয় পতাকার সম্ভাব্য রংগুলির বর্ণনা দেওয়া হল। গেরুয়া, সাদা, সবুজ ও নীল – এই চারটি রং পতাকায় ব্যবহৃত হয়েছে। এটিকে সিএমওয়াইকে বর্ণ মডেল; ডাই রং ও প্যান্টন সমসংখ্যা অনুযায়ী এইচটিএমএল আরজিবি ওয়েব রং (হেক্সাডেসিম্যাল নোটেশন) অনুযায়ী বিভক্ত করা হল।


        সর্বোচ্চ ব্যান্ডের সরকারি (সিএমওয়াইকে) মূল্য হল (0,50,90,0) – এটি কমলা রঙের অনুরূপ – যার সিএমওয়াইকে = (0,54,90,0)। প্রকৃত গাঢ় গেরুয়ার সিএমওয়াইকে মূল্য যথাক্রমে (4, 23, 81, 5)) ও (0, 24, 85, 15))। পতাকাটির নকশা প্রস্তুত করেন পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া

প্রতীক:


        স্বাধীনতাপ্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে বিশেষভাবে গঠিত গণপরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সব দল ও সম্প্রদায়ের নিকট গ্রহণযোগ্য করে হতে হবে। এই কারণে, অশোকচক্র সম্বলিত গেরুয়া, সাদা ও সবুজ ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, যিনি পরবর্তীকালে ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তিনি গৃহীত পতাকার প্রতীকতত্ত্বটি ব্যাখ্যা করে নিম্নলিখিত ভাষায় তার গুরুত্ব বর্ণনা করেন:


পতাকার সম্মান:

        ভারতীয় আইন অনুসারে জাতীয় পতাকার ব্যবহার সর্বদা "মর্যাদা, আনুগত্য ও সম্মান" ("dignity, loyalty and respect") সহকারে হওয়া উচিত। "প্রতীক ও নাম (অপব্যবহার রোধ) আইন, ১৯৫০" ("The Emblems and Names (Prevention of Improper Use) Act, 1950") অনুসারে জারি করা "ভারতীয় পতাকা বিধি – ২০০২" ("Flag Code of India – 2002") পতাকার প্রদর্শনী ও ব্যবহার সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা বহন করে। সরকারি বিধিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকা কখনই মাটি বা জল স্পর্শ করবে না; এটিকে টেবিলক্লথ হিসেবে বা কোনো প্লাটফর্মের সম্মুখে আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না; জাতীয় পতাকা দিয়ে কোনো মূর্তি, নামলিপি বা শিলান্যাস প্রস্তর আবরিত করা যাবে না ইত্যাদি। ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা বস্ত্র, উর্দি বা সাজপোষাক হিসেবে ব্যবহার করা যেত না। ২০০৫ সালের ৫ জুলাই সরকার পতাকাবিধি সংশোধন করে বস্ত্র বা উর্দি হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করেন। যদিও নিম্নাবরণ বা অন্তর্বাস হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। এছাড়াও বালিশের কভার বা গলায় বাঁধার রুমালে জাতীয় পতাকা বা অন্য কোনো প্রতীকচিহ্ন অঙ্কণ করা নিষিদ্ধ। ইচ্ছাকৃতভাবে উলটো অবস্থায় পতাকা উত্তোলন, কোনো তরলে ডোবানো বা উত্তোলনের আগে ফুলের পাপড়ি ছাড়া অন্য কিছু তাতে বাঁধা বা পতাকাগাত্রে কোনো কিছু লেখাও নিষিদ্ধ।

পতাকার ব্যবহার:

        জাতীয় পতাকার ব্যবহার ও প্রদর্শনী সংক্রান্ত একাধিক প্রথা অনুসৃত হয়ে থাকে। বহির্দ্বারে আবহাওয়া ব্যতিরেকে সূর্যোদয়ের সময় পতাকা উত্তোলিত হয় এবং সূর্যাস্তের সময় তা নামিয়ে ফেলা হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি ভবনে রাতেও জাতীয় পতাকা উড্ডয়নের রীতি আছে।


        জাতীয় পতাকা কখনই উলটো অবস্থায় বর্ণনা করা, প্রদর্শিত করা, বা উত্তোলন করা অনুচিত। প্রথা অনুসারে পতাকাটিকে ৯০ ডিগ্রির বেশি আবর্তিত করা যায় না। কোনো ব্যক্তি যেন পতাকাকে উপর থেকে নিচে ও বাঁদিক থেকে ডান দিকে বইয়ের পাতার মতো "পড়তে" পারেন এবং আবর্তিত হওয়ার পরও যেন এই বৈশিষ্ট্যের ব্যতয় না হয়। ছেঁড়া বা নোংরা অবস্থায় পতাকার প্রদর্শনী অপমানজনক। পতাকাদণ্ড বা উত্তোলন রজ্জুর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য; এগুলিকেও যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হয়।


তথ্যসূত্র:

1. www.wikipedia.org

©
GEO HUB
(Enhance Your Geo Knowledge)
Ghoralia, Santipur, Nadia.
..............................
GEO HUB এর লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়



করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯ নভেম্বর, ১৮৭৭ - ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫) একজন বাঙালী রোমান্টিক রবীন্দ্রানুসারী জাতীয়তাবাদী কবি।

প্রারম্ভিক জীবন:

        তিনি নদিয়া জেলার  শান্তিপুরের  কাছে বাগআঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতার নাম নৃসিংহ বন্দ্যোপাধ্যায়। করুণানিধান শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল স্কুল থেকে ১৮৯৬ সালে এন্ট্রান্স ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন থেকে এফ.এ পাস করে কলকাতা জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশনে বি.এ পড়া শুরু করেন। ১৯০২ সালে বি.এ পাশ করে শিক্ষকতা করতেন।

কাব্যপ্রতিভা:

        ছাত্র জীবন থেকে কবিতা লিখতেন। তার প্রথম লেখা দেশাত্মবোধক কাব্য বঙ্গমঙ্গল প্রকাশিত হয় ১৯০১ সালে। এটি রাজরোষে পড়ার আশঙ্কায় বিনা নামে বের হয়। অন্যান্য কাবগ্রন্থের মধ্যে প্রসাদী, ঝরাফুল, শান্তিজল, শতনরী, রবীন্দ্র আরতি, গীতায়ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার দ্বারা পরবর্তীতে মোহিতলাল মজুমদার  প্রমুখ অনেক কবি প্রভাবিত হন।

সম্মান:

        সাহিত্যে অবদানের কারণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়  তাকে জগত্তারিণী স্বর্নপদক প্রদান করে ১৯৫১ সালে।

তথ্যসূত্র: www.wikipedia.org

©
GEO HUB
(Enhance Your Geo Knowledge)
Ghoralia, Santipur, Nadia.
..............................
GEO HUB এর লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (Jatindranath Sengupta)



যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (Jatindranath Sengupta) (জন্ম: ২৬ জুন, ১৮৮৭ - মৃত্যু: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪) বাংলা ভাষার কবি।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:

        তার জন্ম নদিয়া জেলার  শান্তিপুরে। পৈতৃক নিবাস নদীয়ার হরিপুর গ্রামে।তিনি ১৯১১ সালে হাওড়ার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন।

কর্মজীবন:

        ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে নদীয়া জেলা বোর্ড ও পরে কাশিমবাজার রাজ স্টেটে কাজ করেন।

সাহিত্যজীবন:

        পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন প্রকৌশলী এবং নদীয়া জেলা বোর্ড ও কাশিমবাজার স্টেটে তিনি ওভারসীয়ার হিসেবে কাজ করেন। বাংলা কাব্যকে তিনি সনাতন ভাবালুতা ও রহস্যময়তার নিগড় থেকে মুক্ত করতে যত্নবান ছিলেন। সে-জন্য বাংলা কাব্যকে অবাস্তব কল্পনার জগৎ থেকে কঠোর বাস্তবে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাকে একজন পথিকৃৎ বলা চলে। বোধগম্য কারণেই তার কাব্যে ব্যাঙ্গের সুর তীব্র এবং কাব্যের নামকরণও তাই ভিন্নধর্মী। অনুপূর্বা(১৯৪৬), মরুমায়া (১৯৩০), সায়ম (১৯৪০), ত্রিযামা (১৯৪৮), কাব্য পরিমিতি(১৯৩১), মরীচিকা (১৯২৩), মরুশিখা (১৯২৭), নিশান্তিকা (১৯৫৭) প্রভৃতি তার কাব্যগ্রন্থ।
শেষ বয়সে  ম্যাকবেথ, হ্যামলেট, ওথেলো, শ্রীমদ্ভগবদগীতা, কুমারসম্ভব ইত্যাদির অনুবাদকাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: www.wikipedia.org

©
GEO HUB
(Enhance Your Geo Knowledge)
Ghoralia, Santipur, Nadia.
..............................
GEO HUB এর লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Thursday, 23 July 2020

দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (২৫ জুন ১৯৩৪ - ২ জুন ২০১১)


        দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন। পিতার নাম নন্দদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা নীহারবালা। 

        সাত বৎসর বয়সে কলকাতায় চলে আসেন স্কুলের পড়াশোনার পর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। কিন্তু সংসারের অর্থকষ্ট মেটাতে তিনি বন্ধ করেছিলেন পড়াশুনা। তাতে বিষম চটে গিয়েছিলেন তাঁর পিতা। তিনি তখনই তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেন। কলকাতায় ঘরছাড়া হয়ে উঠলেন হ্যারিসন রোডের একটি মেসে। ওই মেসে তখন থাকতেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। রোজগারের জন্য তখন যা পেতেন তাই করতেন। কখনো গৃহশিক্ষকতা, টাইপিস্ট স্টোরকিপার এবং চায়ের দোকানেও কাজ করতে হয়েছে। অর্থকষ্ট এতটাই ভয়াবহ ছিল। কিন্তু এসবের মধ্যেও সৃজনী মনটা কিন্তু উধাও হয়ে যায় নি। সময় পেলেই শুনতেন জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ও বাচনভঙ্গি। তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন কাজী সব্যসাচী  আবৃত্তিচর্চার সূত্রপাত তখনই। সারাদিন চায়ের দোকানে কাজ করতেন, রাতে ফিরে কলম-খাতা নিয়ে বসে যেতেন , কবিতাও লিখতেন। এমনই একটা সময় সঙ্গীত পরিচালক সুধীন দাশগুপ্ত  এবং সুবীর হাজরার (সত্যজিৎ রায়ের সহকারী) একটি ছবিতেও প্রোডাকশনের কাজ করেছিলেন তিনি। যদিও সে ছবি মুক্তি পায়নি। সুধীন দাশগুপ্তই তাঁকে আকাশবাণীর  ‘অনুষ্ঠান ঘোষক’-এর পদে চাকরির পরীক্ষা দিতে বলেন। অতঃপর ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘোষক হিসাবে আকাশবাণীর চাকরিতে প্রবেশ করেন। তারপর একটানা বত্রিশ বছর আকাশবাণীতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন। অচিরেই কুশলতায় হয়ে ওঠেন আকাশবাণীর সংবাদ ও ভাষ্যপাঠক। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লীতে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক রূপে নির্বাচিত হন। তারপর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষদিকে ফিরে আসেন কলকাতার বেতার কেন্দ্রে। তাঁর কণ্ঠে ' কলকাতার আকাশবাণীতে '‘আকাশবাণী কলকাতা, খবর পড়ছি দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়’'—ভরাট কণ্ঠের এই সম্ভাষণ যে কি প্রভাবে মানুষকে আচ্ছন্ন করত তা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। আর সংবাদ পাঠকে তিনি এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, ঘরে ঘরে সংবাদ পরিক্রমা শোনার জন্য রেডিও খোলা হতো। তাঁর অনেক আবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে রেকর্ড ও ক্যাসেটে। 

        বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রণবেশ সেনের লেখা 'সংবাদ পরিক্রমা' তাঁর ভাবগম্ভীর কণ্ঠে শোনার জন্য অপেক্ষা করে থাকত দুই বাংলার মানুষ। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তা প্রেরণার কাজ করত।
তাঁর এই ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ১০ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন ও সংবর্ধনা জানান।

        বাঙলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে "পদ্মশ্রী" সম্মানে ভূষিত করে।

        আকাশবাণী কলকাতার বেতার কেন্দ্র হতে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে অবসরের পর যৌথ বা একক ভাবে সম্পাদনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ের বই। সেগুলি হল- আবৃত্তি, বাংলাদেশের গল্প, একাত্তরের যুদ্ধে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রভৃতি।

        তাঁর স্ত্রী ছিলেন কত্থক নৃত্যশিল্পী রুবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে শুরু করেছিলেন 'রসকলি' নামে একটি আবৃত্তি ও নৃত্যচর্চা কেন্দ্র। কিন্তু ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর স্ত্রীর অকাল প্রয়াণে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে হঠাৎ সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন অসুস্থ হয়ে স্মৃতিভংশ হয়েছিল তাঁর। দক্ষিণ কলকাতার ল্যাসডাউনে নিজের বাসভবনে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২ রা জুন ৭৭ বৎসর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: www.wikipedia.org

©
GEO HUB
(Enhance Your Geo Knowledge)
Ghoralia, Santipur, Nadia.
..............................
GEO HUB এর লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Saturday, 11 July 2020

শান্তিপুরের স্বাধীনতার ইতিহাস


               ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছিল শান্তিপুর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় নদিয়া জেলার এইরকম একটি প্রাচীন শহর, সংস্কৃতির পীঠস্থান ও হিন্দুদের তীর্থক্ষেত্র দেশভাগের সময় চলে গিয়েছিল পাকিস্তানে। আমরা সবাই জানি ব্রিটিশরা যাওয়ার সময় আমাদের দেশ ভারতবর্ষকে  দুইভাগে ভাগ করে দিয়েছিল।


                ১২ অগাস্ট, ১৯৪৭ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ঘোষণা করলেন, ১৫ অগাস্ট থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে ভারত।
১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট শান্তিপুরবাসীও জানতো যে রানাঘাট মহকুমার অন্তর্গত শান্তিপুর স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে সেই ধারণা অনুসারে ১৪ ই আগস্ট শান্তিপুরের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলনের এবং উৎসব এর প্রস্তুতি চলে এবং অনেক জায়গায় তোরণও নির্মাণ করা হয়। পথঘাট সাজানো হয়। কিন্তু ১৪ ই আগস্ট মধ্যরাত্রে বেতার খবরের প্রকাশ পাই শান্তিপুর সহ নদীয়া জেলা পাকিস্তানের অংশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিনামেঘে বজ্রপাতের মত শান্তিপুরবাসীর অন্তরে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরদিন ১৫ ই আগস্টের সকালে শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের পতাকা উড়তে দেখা যায় , ফলে শান্তিপুর অঘোষিত ভাবেই পাকিস্তান হয়ে যায়।

           গোল বাঁধে বাংলাকে নিয়ে। তার কারণ, দেশভাগ-পরবর্তী মানচিত্র তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন যে সিরিল র‍্যাডক্লিফ, তিনি পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্তরভুক্ত করেছিলেন মালদা এবং নদীয়ার মতো বাংলার হিন্দু অধ্যুষিত জেলা। এর জন্য অনেকাংশেই দায়ী ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বৈচিত্র্য এবং জটিল সামাজিক ও ধর্মীয় সমীকরণ সম্বন্ধে তাঁর অজ্ঞতা, এবং কিছুটা দায়ী ছিল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ইংল্যান্ডে ফেরার তাড়া, যার ফলে তিনি ক্রমাগত দ্রুত দেশভাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছিলেন র‍্যাডক্লিফের ওপর। ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকারের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়  শান্তিপুরকে।

         এই ভাবে শোকের আবহে শান্তিপুরবাসীর তিনটে দিন কাটে যায়। কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন শান্তিপুরবাসী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক নেতা এবং নদীয়ার রাজপরিবারের সদস্যরা  নদিয়া জেলার  পূর্ব পাকিস্তানের অন্তরভুক্তির প্রতিবাদ নিয়ে হাজির হন কলকাতায় ব্রিটিশ প্রশাসনের দরবারে। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কানে সে খবর পৌঁছয়। তড়িঘড়ি তিনি মানচিত্র বদলের আদেশ দেন ভাইসরয়কে, যাতে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি ভারতেই থাকে, এবং মুসলমান অধ্যুষিত জেলা যায় পূর্ব পাকিস্তানে। এই প্রক্রিয়া শেষ হয় ১৭ অগাস্ট গভীর রাতে।


          পন্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র মহাশয়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জওহরলাল  মহাশয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় নদীয়ার শান্তিপুর ওপার বাংলা থেকে বাদ দিয়ে ভারতবর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়।


        অবশেষে ১৭ই আগস্ট মধ্যরাত্রে এক বেতার বার্তার মাধ্যমে জানা যায় যে শান্তিপুর স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ১৯৪৭ সালের ১৮ ই আগস্ট নদিয়ার শান্তিপুর পুরোপুরিভাবে পরাধীন মুক্ত হয়। ঐ দিন সকালে শান্তিপুরের কবি শ্রী করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় নেতৃত্বে শান্তিপুর ডাকঘর মোড়ে (যেটি বর্তমানে নেতাজি মোড় হিসেবে পরিচিত) সেখানে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরিতে 1947 সালের ওই জাতীয় পতাকাটি আজও।

        এখানে জেনে রাখা প্রয়োজন যে , ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বকালে জেলা হিসেবে নদীয়ার প্রথম আত্মপ্রকাশ সে সময় বর্তমান হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশ এই জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট সাময়িকভাবে এই জেলার পাঁচটি মহকুমা : – কুষ্টিয়া, মেহেরপুর,চুয়াডাঙ্গা,কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পূর্ব পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিন দিন বাদে ১৮ আগস্ট ওই প্রথম তিনটি মহকুমা বাদে বাকি দুই মহকুমা কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট “নবদ্বীপ জেলা” নামে পুনরায় ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নদীয়া জেলা তার বর্তমান রূপটি লাভ করে। ১৯৪৭ সালে সাময়িকভাবে জেলার নামকরণ নবদ্বীপ করা হলেও অনতিবিলম্বেই সেই নামকরণ বাতিল হয়।





*****************************************
তথ্য সূত্র :
1. http://bengali.indianexpress.com
2. http://abnnews.org
3. http://thekhaskhabor.in
4. সমাজের প্রতিচ্ছবি  

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। 

Saturday, 13 June 2020

পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় পাখি (West Bengal State Bird)


    

        লাগলা মাছরাঙা বৈজ্ঞানিক নাম: Halcyon smyrnensis  হ্যালসায়নিডি (Halcyonidae) গোত্র  বা পরিবারের  অন্তর্গত হ্যালসায়ন (Halcyon) গণের  অন্তর্ভুক্ত এক প্রজাতির  গেছো মাছরাঙা।

        ধলাগলা মাছরাঙা সাদা গলার বিশ্বজনীন মাছরাঙা (দৈর্ঘ্য ২৮ সেমি, ডানা ১১.৮ সেমি, ঠোঁট ৬ সেমি, পা ১.৬ সেমি, লেজ ৭.৫ সেমি)। পূর্ণবয়স্ক পাখির পিঠ নীলকান্তমণি-নীল ও দেহতল চকলেট-বাদামি। মাথা ও ঘাড় চকলেট-বাদামি এবং পাছা ও লেজসহ পিঠ উজ্জ্বল নীলকান্তমণি-নীল। থুতনি, গলা ও বুকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত উজ্জ্বল সাদা রঙ সামনে স্পষ্ট জামার গঠন লাভ করেছে। ওড়ার সময় কালো প্রাথমিক পালকের গোড়ার সাদা পট্টি নজরে আসে। ঠোঁট লাল ও মুখ কমলা রঙের। চোখ বাদামি। উজ্জ্বল পিছনের পা ও পদতলসহ পা ও পায়ের পাতা প্রবাল-লাল।

        ধলাগলা মাছরাঙা বনের প্রান্তদেশ, আবাদি জমি, বাগান, শুষ্ক পাতাঝরা বন, জলাধার, নদী, খাল, ডোবা, গ্রামের পুষ্করিণী, নর্দমা, উপকূল ও প্যারাবনে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা আলাদা জোড়ায় দেখা যায়। বেড়া, বৈদ্যুতিক তার বা গাছের ডালে বসে মাটিতে বা জলে শিকার পর্যবেক্ষণ করে। খাবারের বেশীর ভাগই পোকামাকড়: ফড়িং, ঝিঁঝিঁপোকা, গুবরে পোকা, পিঁপড়া, ডানাওয়ালা উই, পঙ্গপাল ও অন্য ধরনের ফড়িং। ওড়ার সময় উচ্চ সুরে ডাকে: কে-কে-কেক..; এবং শিস্ দিয়ে গান গায়: কিলিলিলি…। মার্চ-জুন প্রজনন ঋতু। খাড়া পাড়ে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানায় ও মেয়েপাখি ৪-৭টি ডিম পাড়ে। ডিম সাদা গোল ডিম্বাকার, মাপ ২.৯ × ২.৬ সেমি।


        ধলাগলা মাছরাঙা সকল জলাশয় ও পল্লী এলাকায় বিচরণ করে। পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত  ছাড়াও দক্ষিণ  ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার  বিভিন্ন দেশে -  পাকিস্তান, নেপাল,  ভূটান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে দেখা যায়। ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য তুরস্ক  ও বুলগেরিয়াতেও এদের বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়।

        ধলাগলা মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ স্মির্নার মাছরাঙা (গ্রিক: halkuon = মাছরাঙার সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক পাখি, smyrnrnsis = স্মির্না শহর, তুরস্ক)। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৭১ লক্ষ ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

        ধলাগলা মাছরাঙা বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত হলেও বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমছে। তবে দুনিয়ায় এখন 10000 এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছায়নি। সেই কারণে আই. ইউ. সি. এন এই  প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপর্যস্ত  বলে ঘোষণা করেছে।

****************************
তথ্যসূত্র:
1) www.roddure.com
2) https://bn.m.wikipedia.org


লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Thursday, 11 June 2020

পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় পশু (West Bengal State Animal)



        মেছোবাঘ, বাঘরোল বা মেছো বিড়াল (ইংরেজি: Fishing Cat),বৈজ্ঞানিক নাম:Prionailurus viverrinus মাঝারি আকারের বিড়ালগোত্রীয় একধরনের স্তন্যপায়ী মাংসাশী বন্যপ্রাণী।
        চেহারায় সাধারন বিড়ালের প্রায় দ্বিগুন, ছাই রঙের খরখরে লোমশ শরীর। মাথা থেকে কাধের দিকে লম্বা টানা ডোরা, শরীরের পাশের দিকটায় আবার ছোপ ছোপ। ডোরা আছে মুখে, পেটের দিকটা সাদাটে। সাধারনত নিশাচর এবং জলাশয়ের কাছাকাছি অঞ্চলে বসবাসকারী। এই প্রাণীই বাংলার ‘স্টেট অ্যানিম্যাল’। অর্থাত পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় পশু।

        ব্রাজিল, কোস্টারিকা, বাংলাদেশ, ভারত, বলিভিয়া, ক্যাম্বোডিয়া, লাউস, শ্রীলঙ্কায়  এরা স্থানীয়ভাবে বাঘরোল নামে পরিচিত। বাঘরোল সাধারণত নদীর ধারে, পাহাড়ি ছড়া এবং জলাভূমিতে বাস করে। এরা সাঁতারে পারদর্শী হ‌ওয়ায় এধরনের পরিবেশে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে। এদের গায়ে ছোপ ছোপ চিহ্ন থাকার জন্য চিতাবাঘ বলেও ভুল করা হয়।

        বিগত কয়েক দশকে বাঘরোলের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।জনবসতি স্থাপন, কৃষিজমিতে রূপান্তর ও অন্যান্য কারণে বাঘরোলের আবাসস্থল জলাভূমিগুলো দিন দিন সংকুচিত ও হ্রাস পাওয়াই এর মূল কারণ। তাই আইইউসিএন ২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করে।

        রাজ্য-প্রাণী হিসাবে তকমা পেয়েছে সে। কিন্তু তাতে নিরাপত্তা তো বাড়েনি। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মাঝে মধ্যেই বাঘরোল পিটিয়ে মারার কথা শোনা যায়। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য-প্রাণীর তকমা জুটলেও তাদের খাদ্য ও বাসস্থান নিয়ে সরকারি স্তরে চিন্তাভাবনা কতটা করা হচ্ছে, আদৌ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে বারে বারেই।
******************************************

তথ্যসূত্র :
1. https://bn.m.wikipedia.org
2. আনন্দবাজার পত্রিকা


লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Saturday, 16 May 2020

পার্থেনিয়ামের (Perthenium)

Under Construction

               প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান  উদ্ভিদ উদ্ভিদ যেমন আমাদের উপকারে আসে তেমনই কোনো কোনো উদ্ভিদ ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় তেমন ক্ষতিকর একটি উদ্ভিদের নাম পার্থেনিয়াম প্রকৃত অর্থে পার্থেনিয়াম এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা, যা মানুষ প্রাণীদের নানা ক্ষতি করে থাকে

উদ্ভিদ পরিচিতি :

পার্থেনিয়ামের ইংরেজি নাম Perthenium. পার্থেনিয়ামের বিজ্ঞানসম্মত নাম Parthenium Hysterophorus. এই পার্থেনিয়ামে রয়েছে Sesquiterpene Lactones নামক বিষ অনেকটা ধনে গাছের মতো দেখতে ঝোপের মতো হয়ে থাকে এগুলো একধরনের বিষাক্ত আগাছা,পাতা সবুজ এবং ফুল গুলিসাদা এই বিষাক্ত উদ্ভিদটি সাধারণত উচ্চতায় থেকে . মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পার্থেনিয়াম শাখা বিস্তারের মাধ্যমে গম্বুজ আকৃতির অথবা ঝোপ আকারের হয়। পাতা শাখাযুক্ত ত্রিভুজের মতো। নির্দিষ্ট বয়সে ফুল ফোটে। একটি গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল বীজ দেয়। গোলাকার, সাদা, আঠালো এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে এর ফুল। পার্থেনিয়ামের একটি গাছ থেকে ২৫ হাজার বীজের জন্ম দিতে পারে।
স্থানীয় ভাবে একে গাজর ঘাসও বলে


বাসস্থান  বিস্তার:
     পার্থেনিয়ামের মূল উৎপত্তিস্থল মেক্সিকো। সেখান থেকে এই বিষাক্ত আগাছা ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে। বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে, বন-জঙ্গলে বা ফসলের ক্ষেতে পার্থেনিয়াম জন্ম বিস্তার লাভ করে। এই বীজ এতই ছোট যে সাধারণত গবাদিপশুর গোবর, গাড়ির চাকার কাদামাটি, পথচারীদের জুতা-স্যান্ডেলের তলার কাদামাটি, সেচের পানি বাতাসের সঙ্গে এর বিস্তার ঘটে

রাসায়নিক উপাদান:
          পার্থেনিয়ামে রয়েছে Sesquiterpene Lactones নামক টক্সিন বা বিষ, যা গঠিত হয় Caffeic acid, Vanillic acid, Ansic acid, P-anisic acid, Chlorogenic acid, Ges Parahydroxy benzoic acid দ্বারা। এই বিষ মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। ছাড়াও এই বিষাক্ত আগাছা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা কীটপতঙ্গ ফসল উভয়েরই ক্ষতি করে। পার্থেনিয়াম আগাছা ফসলি জমিতে থাকলে ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয়। পার্থেনিয়াম আগাছাযুক্ত মাঠে গবাদিপশু চরানো হলে পশুর শরীর ফুলে যায়, তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। ছাড়া পার্থেনিয়াম মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় হাত-পা চুলকায়, লাল হয়ে যায় এবং পরে ত্বকক্যান্সারের সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারে। খারাপ খবর হল ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়ামজনিত বিষক্রিয়ায় পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছে
           পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর হলেও এর রয়েছে কিছু ঔষধিগুণ। বর্তমানে এই আগাছা থেকে মানুষের আমাশয়, প্রচণ্ড জ্বর, বদহজম, টিউমার, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল রোগের প্রতিষেধক তৈরি হচ্ছে
ক্ষতিকর প্রভাব
1.      পার্থেনিয়াম মানুষের হাতে পায়ে লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় হাতপা চুলকায়, লাল হয়ে যায় এবং পরে ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
2.      পার্থেনিয়ামে আক্রান্ত ব্যক্তি ঘন ঘন জ্বরঅসহ্য মাথাব্যথা  উচ্চরক্তচাপে ভুগতে পারে।
3.      দশ মিটার দূর থেকেও এই আগাছাটির ফুলের রেণু মানুষের এলার্জিহাঁপানি রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
4.      পার্থেনিয়াম আগাছা যুক্ত মাঠে গবাদিপশু চরলে পশুর শরীর ফুলে যায়, তীব্র জ্বর,বদহজমসহ 
নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
5.       এই গাছ খেলে গাভীর দুধ তিতা হয়যা দীর্ঘদিন পান করলে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
6.      এই বিষাক্ত আগাছা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা কীটপতঙ্গ  ফসলউভয়ের ক্ষতি করে।
7.       পার্থেনিয়াম আগাছা জমিতে থাকলে ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমে যায়।
8.      পার্থেনিয়ামের রেণু বাতাসে মিশে টমেটো, মরিচ  বেগুনের ফুল ঝরিয়ে দেয়।
9.      এই গাছ থেকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণের ফলে ডাল জাতীয় ফসলের  গাছের
নাইট্রোজেন  তৈরিতে সহায়তাকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়।
10. এই আগাছা ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয় বিশেষ করে ভূট্টার ক্ষেত্রে আগাছা ফল ধরার পর প্রাথমিক অবস্থায় মোচার ফল ধারণ ক্ষমতা  ত্রিশ শতাংশ হ্রাস করে এছাড়া ধান, ছোলা, সরিষা, গম, বেগুন, এবং লঙ্কার  ক্ষেত্রে  বীজের অঙ্কুরোদগম বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়

পার্থেনিয়াম দমন
1. এই আগাছার পুড়িয়ে ফেলা যেতে পারে।
2.  গাছ কেটে গভীরগর্তে পুতে ফেলা যেতে পারে। 
3. কীটনাশক ব্যবহার করেও আগাছা দমন করা যেতে পারে।
4. চারা অবস্থায় গাছগুলোকে উপড়ে ফেলা যেতে পারে।
5. পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হওয়া।





লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।