Welcome to GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) Ghoralia, Santipur, Nadia, West Bengal-741404, Mobile: 8926495022 email: geohubghoralia@gmail.com

Diable copy paste

Showing posts with label Geographical Article. Show all posts
Showing posts with label Geographical Article. Show all posts

Wednesday, 1 September 2021

“এলিয়েন দ্বীপ সোকোত্রা”

 


এলিয়েন শব্দটি শোনা মাত্রই আমাদের মস্তিষ্কে ভাসে আজব সব চিত্র। যা আমাদের পৃথিবীর সাধারণ সব চিত্র থেকে একেবারে ভিন্ন। এই জায়গাটির গাছ-পালা পশু  পাখি সব কিছুই আমাদের চেনা পৃথিবীর বাইরের মতো।এমন আজব বা রহস্যময় একটি জায়গার নাম সোকোত্রা দ্বীপ।


সোকোত্রা আরব সাগরের মাঝে অবস্থিত। ভৌগোলিক পরিবেশ এবং গাছপালার অদ্ভুত দর্শনের কারণে এই দ্বীপকে ভিনগ্রহবাসীদের দ্বীপ বা ‘এলিয়েন দ্বীপ’ বলা হয়ে থাকে। দ্বীপ বললে ভুল বলা হবে, কেননা সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ আরব সাগরের চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত, যেগুলোর বেশিরভাগ অংশই পড়েছে ইয়েমেনের ভেতরে।

মধ্য প্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ। সোকোত্রাই আয়তনে সবচেয়ে বড়। সুকাত্ররর আয়তন প্রায় ৬৫৬০ বর্গকিলোমিটার। ইয়েমেন ২০১৩ সালে এটিকে একটি প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে। এটা হর্ন অফ আফ্রিকা থেকে ২৪০ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) পূর্ব এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ৩৮০ কিলোমিটার (২৪০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। এর স্থানাঙ্ক ১২°৩০′৩৬″ উত্তর ৫৩°৫৫′১২″ পূর্ব। ৩,৭৯৬ বর্গ কিলোমিটার ভূমি বিশিষ্ট এ দ্বীপপুঞ্জ দৈর্ঘ্যে ১৩২ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৫০ কিলোমিটার। প্রদেশটির রাজধানীর নাম হাদিবু।


আজব বা রহস্যময় দ্বীপ সোকোত্রা। এখানে তেমন কোনো আজব ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি, তবে দ্বীপটি নিজেই যেন অপার্থিব রহস্যে ভরপুর। এখানকার জীবজগৎ, প্রাণীকুল কোন কিছুর সাথেই পৃথিবীর অন্য কোন স্থানের কোনো মিল নেই। যেমন অদ্ভুত দর্শনের গাছপালা এখানে, তেমনিই অদ্ভুত এখানকার পশুপাখি। এখানকার সবকিছু এত অদ্ভূত দর্শনের যে এই দ্বীপকে ভিনগ্রহের কোনো জায়গা বললে মোটেই ভুল হবে না। আরব সাগরের মাঝে অবস্থিত এই দ্বীপ যেখানে এলিয়েনদের দেখা না মিললেও ভৌগোলিক পরিবেশ এবং গাছপালার ভিন্নতার জন্যই নাম হয়েছে “এলিয়েন দ্বীপ”।


ভৌগলিকভাবে দ্বীপটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সারাবছরই এখানে হালকা বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষাকালে এই বৃষ্টিপাতের পরিমান বেড়ে যায়। সারাবছরই দ্বীপের তাপমাত্রা মোটামুটি স্থিতিশীল। গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীত যেকোনও সময় এখানে এলে দেখা যাবে একধরনের কুয়াশা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাজুড়ে সবসময় এক কুহেলিকার আবরণ তৈরি করে রেখেছে।


এ দ্বীপের বেশিরভাগ উদ্ভিদই স্থানীয়। এ দ্বীপের বেশিরভাগ উদ্ভিদই এন্ডেমিক। পৃথিবীর কোথাও এগুলোর দেখা মেলে না। এই স্থানীয় উদ্ভিদগুলো গড়ন এতটাই অদ্ভুত যে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।

উদ্ভিদগুলোর অদ্ভুত গড়নই এই দ্বীপকে ভিনগ্রহীদের দ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করার মূল কারণ। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের জীববিজ্ঞানীগণ জরিপ করে প্রায় ৭০০ প্রজাতির স্থানীয় উদ্ভিদ পেয়েছেন সারা পৃথিবীতে। আর সোকোত্রা দ্বীপে ৮২৫ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ৩০৭টি প্রজাতিই স্থানীয়, অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ উদ্ভিদ আপনি পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখতে পাবেন না। ২০০৪ সালে IUCN এর লাল তালিকায় সোকোত্রার ৩টি অতিবিপন্ন এবং ২৭টি বিপন্ন উদ্ভিদের নাম রয়েছে।


এই দ্বীপের সবচেয়ে অদ্ভুত গাছ হলো ড্রাগন-ব্লাড ট্রি। এই গাছটি দেখতে একেবারে ব্যাঙের ছাতার মতো। উচ্চতায় বড়জোড় ৭-৮ ফুট। অদ্ভুত গড়নের ছাতাকৃতির এই গাছটি থেকে লাল বর্ণের আঠালো পদার্থ বের হয়। কথিত আছে বহুকাল আগের ড্রাগনের রক্ত থেকে এই গাছের উৎপত্তি এবং সে অনুযায়ী এর নামকরণ! এই গাছের আঠা রঙ তৈরিতে এবং বার্নিশের কাজে ব্যবহৃত হয়।


আরেকটি বিশেষ উদ্ভিদ হলো ডেন্ড্রোসসিয়াস নামক এক প্রকারের শশা গাছ। বিভিন্ন আকৃতির কান্ডটি লম্বা হয়ে চূড়া তৈরি করে, যেখানে হলুদ, গোলাপী ফুল ফোটে। উভলিঙ্গ এই গাছের জন্ম এই দ্বীপের বয়সের দ্বিগুণ আগে বলে গবেষকদের ধারণা। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এদের বংশবিস্তারের অনুকূল।


এছাড়াও রয়েছে পোমেগ্র্যানেট নামক ফুলের উদ্ভিদ। এটি আড়াই থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাধারণত ফুল এবং ফল হয়। ফুলগুলো সাধারণত গোলাপি বা লালের কাছাকাছি রঙের হয় আর ফল পাকলে তা হলদে-সবুজ রঙ ধারণ করে। এই গাছের কাঠ খুব শক্ত হয় এবং ছোটখাট আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃতও হয়। এই গাছটি সোকোত্রার বিশেষ উদ্ভিদ হলেও হাওয়াইতে দ্বীপে চাষের চেষ্টা চলছে।


এমন অদ্ভুত দেখতে গাছ খুব একটা চোখে পড়েছে কি? আরব সাগরের বুকে একটি দ্বীপে এমন আরও অনেক বিচিত্র দর্শন গাছ রয়েছে যেগুলিকে দেখলে সত্যজিৎ রায়ের লেখা কল্পবিজ্ঞানের গল্পগুলির কথা মনে পড়ে যেতে পারে। প্রফেসর শঙ্কুর নানা অভিযানের মধ্যে এমন অনেক বিচিত্র গাছের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু এই দ্বীপে এলে কল্পবিজ্ঞানের গল্পের বিচিত্র দর্শন গাছপালা চোখের সামনে দেখতে পাবেন।

২০০৮ সালে ইউনেসকো এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর তকমা দেয়। এই সোকোত্রা দ্বীপের বিচিত্র দর্শন গাছপালাগুলির মধ্যে অন্যতম হল ড্রাগন-ব্লাড, ডেন্ড্রোসসিয়াস, পোমেগ্র্যানট। এই দ্বীপে এলে চারপাশের পরিবেশ আর গাছপালা দেখে আপনার মনে হতেই পারে যে, আপনি হয়তো অন্য কোনও গ্রহে এসে পড়েছেন!


স্কিংস, পা-বিহীন টিকটিকি, নানা প্রকারের মাকড়শা এবং তিন প্রকারের কাঁকড়ার দেখা মেলে এ দ্বীপে। স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে মানুষ ও বাদুড় ছাড়া আর কোনো প্রাণীর সন্ধান মেলেনি।


দ্বীপটি তেমন জনবহুল নয়। সোকোত্রায় বর্তমানে ছশোটি গ্রামে প্রায় ষাট হাজার মানুষ বসবাস করে। দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলবর্তী হাবিদু শহরেই সবচেয়ে বেশি লোক বাস করে। দ্বীপে বসবাসকারী বেশিরভাগ লোকই স্থানীয়।


কি ভাবছেন ? একবার ঘুরে দেখবেন নাকি, এই "এলিয়েন দ্বীপ সোকোত্রা"। চাইলে আপনি যেতেই পারেন জাহাজে করে আরব সাগর দিয়ে তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস বাদে বছরের অন্যান্য সময়ে। অথবা বিমানে সোকোত্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। 

এখানে গণপরিবহন ব্যবস্থা খুবই সামান্য। দুই-একটি মিনিবাসের দেখা মিলতে পারে। তাছাড়া আপনি চাইলে গাড়িও ভাড়া করতে পারেন। পরিবহন ব্যবস্থা নগণ্য হবার প্রধান কারণ এই এলাকার বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেম। গাড়ির অতিরিক্ত ব্যবহারে খুব বাজেভাবে ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভ্রমণের বেশিরভাগ সময় হয়তো আপনাকে পায়ে হেঁটেই চলতে হতে পারে।


তথ্যসূত্র:

Wikipedia, goggles.blog, আটপৌরে, Roarmedia, Zee24Ghanta, DurbinNews.


লেখক:

অয়ন বিশ্বাস

ঘোড়ালিয়া,শান্তিপুর,নদিয়া।

Sunday, 26 July 2020

বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গনগনি


        'ক্যানিয়ন' বললে প্রথমেই মনে পড়ে যায় ভূগোলের বইতে পড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুক্ত 'অ্যারিজোনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের' কথা, নদীর স্রোতের শিল্পকর্মের নিদর্শন হল এই ক্যানিয়ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখতে সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটক যান। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে, খোদ বাংলাতেই রয়েছে অবিকল এমনই একটি জায়গা যা বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম  মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার গনগনিকে বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন বলা হয়। এর স্থানাঙ্ক ২২ ডিগ্রি ৫১মিনিট ২৪ সেকেন্ড উত্তর , ৮৭ ডিগ্রি ২০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পূর্ব।
           শীলাবতী নদীর পাশে অবস্থিত এই অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কোনও অংশেই কম নয়। সপ্তাহান্তে ভ্রমণের আদর্শ জায়গা।শিলাবতী নদীর তীরে গড়বেতার অন্যতম পর্যটনস্থল গনগনি। মেদিনীপুর শহর থেকে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। কানায় কানায় ভরা প্রকৃতি। পাথুরে খাদের উপর আকাশের ডাকাডাকি। গায়ে গেরুয়া ওড়না জড়িয়ে দাঁড়িয়ে গনগনি। বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। 

         প্রকৃতিই এখানে শিল্পী। তার আপন খেয়ালেই সেজে উঠেছে নিসর্গের এলাকাটি।একেবারে গা ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে শিলাবতী। পাশে ক্ষয়িষ্ণু ভূমি। সূর্য হেলে যখন নদীজলে খেলা করে তখন সেই ভূমি আরও লাল হয়ে ওঠে। অপরূপ সৌন্দর্য্য।  নদীপাড় ক্ষয়ে মাঝে মাঝে তৈরি হয়েছে বিস্তৃত পাথুরে ভূমি। ক্ষয়িষ্ণু এই প্রস্তরেই সৌন্দর্য্য ঝলসে ওঠে। অনেকটা আমেরিকার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’- এর মতোই দেখতে রূপসী বাংলার এই গনগনি।
আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মিনিয়েচার ভার্সন খুঁজে পাবেন আমাদের রাজ্যেই। অ্যারিজোনার জায়গায় গনগনি। আর কলোরাডোর জায়গায় শিলাই নদী!
মেদিনীপুরের গড়বেতার কাছে গনগনিতে নদীপাড় ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তৃত র‌্যাভাইন। ছোটখাটো ক্যানিয়ন বললেও ভুল হবে না। শিলাবতী নদী, যার ডাক নাম শিলাই এঁকেবেঁকে চলেছে এখানে। শিলাবতীর চরে প্রকৃতিই তৈরি করেছে এই ক্যানিয়ন। এখানে ভূমিক্ষয়ের প্রবণতা একটু বেশি। নদীর ক্ষয়ের ফলে ল্যাটেরাইটে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ।

        শিলাবতী, আদরের নাম শিলাই। দৈর্ঘ্যে খুব বড় নয় সে। ছোটনাগপুরের মালভূমিতে তার জন্ম, পুরুলিয়ার পুঞ্চা শহরের কাছে। তার পর পুরুলিয়া, বাঁকুড়া আর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দিয়ে বয়ে গেছে। ঘাটালের কাছে দ্বারকেশ্বর নদের সঙ্গে মিশেছে। এই ছোট্ট শিলাই প্রায় সারা বছর শুয়ে থাকে, অত্যন্ত রুগ্ন, শীর্ণ চেহারা তার। কিন্তু বর্ষা এলেই তার রুদ্র রূপ, ভাসিয়ে দেয় চন্দ্রকোনা, ক্ষীরপাই আর ঘাটাল। এ হেন শিলাবতীর কেরামতিতে সৃষ্টি এই গনগনির ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’।

        গনগনি আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন থেকে দশ হাজার বছরের মধ্যবর্তী সময়ের সঞ্চিত কাঁকুরে পলল স্তরের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমান্বয়ে ঋতুগত ভৌমজলস্তরের ওঠানামার ফলে আদ্রতা ও শুষ্কতার প্রভাবে তৈরি হওয়া ল্যাটেরাইটের প্রকাশ। শিলাবতী নদীর ডানদিকের পাড় বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০ মিটার উঁচু এই ডাঙার খাড়া ঢাল বরাবর গভীর ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট অজস্র ছোট ছোট নালা এবং নালাগুলির সংযুক্তির ফলে সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য গালির সমন্বয়ে এই ক্ষয়িষ্ণু ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।

        এত গেল ভৌগলিক ব্যাখা,এই গনগনিকে ঘিরে রয়েছে এই অঞ্চলের লোককাহিনি, রয়েছে ইতিহাস। যে ইতিহাসের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এক টুকরো মহাভারত। সেই ইতিহাসের শিকড় পৌরাণিক যুগে মহাভারত অব্দি বিস্তৃত। অজ্ঞাতবাসে থাকার সময় পঞ্চপাণ্ডব এখানে নাকি কিছু দিন কাটিয়েছিলেন।পাণ্ডবরা বনবাসে থাকাকালীন একদিন এসে পড়েছিলেন এই গনগনি তে। এই তল্লাটে তখন দাপিয়ে বেড়াত বকাসুর নামের রাক্ষস। কোনো একজন গ্রামবাসীকে রোজ তার হাতে তুলে দিতে হত নৈবেদ্য হিসেবে। এর অন্যথা হলে, সমস্ত গ্রাম তছনছ করে ছাড়তো বকাসুর। পাণ্ডবরা এইখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। বকাসুরের খাদ্য হিসেবে উৎসর্গ হওয়ার জন্য একদিন সময় এলো এই পরিবারের। মাতা কুন্তীর নির্দেশে ভীম এই পরিবারের সদস্য হয়ে নিবেদিত হলো বকাসুরের কাছে। শুরু হলো প্রবল যুদ্ধ বকাসুরের সাথে শক্তিশালী ভীমের। অবশেষে ভীমের হাতেই বধ হলো বকাসুর। তাদের যুদ্ধের প্রতাপে এখানকার মাটি কেঁপে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, শিলাবতীর এই গিরিখাত আসলে বকরাক্ষস আর ভীমের মধ্যে যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয়েছিল তার ফলেই তৈরি হয়েছিল।লোককথা অনুযায়ী, এই জায়গাতেই নাকি বকাসুরকে বধ করেছিলেন ভীম। আর ক্যানিয়নের গুহার মতো অংশগুলো জনশ্রুতিতে হয়ে গিয়েছে পাণ্ডবদের গুহা! 

        কল্পকাহিনী ছেড়ে এবারের আসি ইতিহাসে পাতায়। চূয়াড়-লায়েক বিদ্রোহ তো বেশি দিনের কথা নয়। মোটামুটি দু’শো বছর আগের কথা। ১৭৯৮ - ৯৯ সালে চূয়াড় বিদ্রোহ চড়িয়ে পড়েছিল মেদিনীপুর জেলায়। বহু চূয়াড় নেতা সদলবলে আত্মগোপন করেছিলেন গনগনিতে।বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক অচল সিংহ তাঁর দলবল নিয়ে আস্তানা গেড়েছিলেন গনগনির গভীর শালবনে, রপ্ত করেছিলেন গেরিলা লড়াইয়ের কলাকৌশল। ইংরেজদের ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন। ইংরেজ বাহিনী নাকি কামান দেগে গোটা শালবন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তবু দমানো যায়নি অচলকে। চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। অবশ্য শেষরক্ষা করতে পারেননি। বগড়ির শেষ রাজা ছত্র সিংহ ধরিয়ে দেন অচলদের। এই গনগনির মাঠেই নাকি অচল ও তাঁর সঙ্গীদের ফাঁসি দিয়েছিল ইংরেজ। 

         ইতিহাস , ভূগোল , পুরান বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানেই প্রতি বছরই অনেক পর্যটক এখানে আসেন। প্রকৃতির এই সৃষ্টির কাছে যেন মাথা নোয়ায় মানুষের সৃষ্টি। সেই দিক থেকে গনগনি আর পাঁচটা পর্যটনস্থলের থেকে একেবারে আলাদা। একেবারে অন্য রকম।

         বর্ষায় ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদী গিয়ে আছড়ে পড়ে পাশের উঁচু টিলায়। পাশাপাশি বৃষ্টিতেও ভূমিক্ষয় হয়। সেই ভূমিক্ষয় থেকেই তৈরি হয়েছে ছোট ছোট টিলা, গর্ত, খাল। তাতে আবার রঙের বৈচিত্র্য। কোথাও সাদা, কোথাও লালচে বা ধূসর। কোনও অংশ দেখে আবার মনে হবে যেন মন্দির, আবার কোনও অংশ মনুষ্য আকৃতির, কোথাও বা টিলা গুহার আকার নিয়েছে। ভূগোলের ছাত্রছাত্রী থেকে গবেষক, ভূমিক্ষয় নিয়ে গবেষণার জন্য অনেকেই এখানে আসেন। আর ভ্রমণ-পিপাসু মানুষ আসেন ভূমিক্ষয়ের ফলে তৈরি প্রকৃতির শিল্পকর্ম দেখতে। শীতের  দুপুরে গনগনি যেন সত্যিই রঙের লাবণ্যে গনগন করে ওঠে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় গনগনির রূপ সবচেয়ে সুন্দর। গনগনি-র রূপ যেন মোহময়ী। এই সময়ে জায়গাটাকে ফোটোগ্রাফারদের স্বর্গরাজ্য বললেও অত্যুক্তি হবে না।

তথ্যসূত্র :
1. www.bongodorshon.com
2. https://ebela.in 
3. https://www.anandabazar.com
4.https://www.jiyobangla.com
5. https://wikipedia.org

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভারতের নায়াগ্রা চিত্রকূট জলপ্রপাত


         চিত্রকূট বা চিত্রকোট জলপ্রপাত ভারতের ছত্তিসগড় রাজ্যের বাস্তার জেলায় জগদলপুরের পশ্চিমে অবস্থিত। অবস্থান হল ১৯°১২'২৩" উত্তর ৮১°৪২'০০" পূর্ব। এটি একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। এটি ইন্দ্রবতী নদীর তীরে অবস্থিত একটি সুন্দর নয়নাভিরাম  জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ২৯ মিটার (৯৫ ফুট)। এই জলপ্রপাতের বৈশিষ্ট্যটি হ'ল বর্ষার দিনে এই জলটি লালচে বর্ণের হয়, গ্রীষ্মের চাঁদনি রাতে এটি একেবারে সাদা দেখায়। জলপ্রপাতটি জগদলপুরের পশ্চিমে ৩৮ কিলোমিটার (২৪ মাইল) এবং রায়পুর থেকে ২৭৩ কিমি দূরে অবস্থিত। চিত্রকোট জলপ্রপাতটি ছত্তিসগড়ের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক জলমগ্ন বা জল বহনকারী জলপ্রপাত। এটি বাস্তার বিভাগের প্রধান জলপ্রপাত হিসাবে বিবেচিত হয়। 

         অশ্বখুরাকৃতির এই জলপ্রপাতটি ভারতের সর্ববৃহৎ খাড়া পতন। বর্ষা মৌসুমে এটির প্রস্থ এবং বিস্তৃত বিস্তারের কারণে এটি প্রায়ই ভারতের নায়াগ্রা জলপ্রপাত বলে পরিচিত। কমপক্ষে তিনটি এবং সর্বাধিক সাতটি ধারা প্রবাহিত হয় এই জলপ্রপাত থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে।
 
        এমনিতে ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলা মাওবাদী হামলার জন্য কুখ্যাত। কিন্তু এখানকার চিত্রকূট জলপ্রপাত পর্যটকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। জগদলপুর সংলগ্ন হওয়ার কারণে এটি একটি বড় পিকনিক স্পট হিসাবে খ্যাতিও অর্জন করেছে। আর তা অবশ্যই এর সৌন্দর্যের জন্য। চিত্রকুট জলপ্রপাতটি খুব সুন্দর এবং পর্যটকরা এটি খুব পছন্দ করেন।  আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই জলপ্রপাতকে দেখতে লাগবে ‘পিকচার পারফেক্ট’। জলপ্রপাতের নিজস্ব সৌন্দর্য তো আছেই, এর চারপাশে সবুজও চোখ টানে পর্যটকদের। শক্তিশালী গাছ এবং বিন্ধ্য রেঞ্জের মাঝখানে পড়ে একটি বৃহত জলের দেহ পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিখ্যাত চিত্রকোট জলপ্রপাত, "ভারতের নায়াগ্রা" প্রতি মরসুমে দৃশ্যমান হয়, তবে বর্ষাকালে এটি দেখতে আরও উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা। বৃষ্টিপাতের উচ্চতা থেকে বিশাল জলের গর্জন শিহরণ এবং কাঁপুনি তৈরি করে বর্ষাকালীন এই ঝর্ণার সৌন্দর্য খুব বেশি। জুলাই-অক্টোবর সময়কালে দর্শকদের এখানে আসার উপযুক্ত সময়। ঘন অরণ্য চারদিকে মনোরম জলপ্রপাত, যা এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই জলপ্রপাতের কোণে আপনি বহু সুন্দর পাখি দেখতে পাবেন যা এই স্থানের সৌন্দর্যকে যোগ করে। এই জলপ্রপাত দ্বারা সৃষ্ট শব্দ এতটাই তীব্র যে এর পাশে সৃষ্ট অন্য কোন আওয়াজ শোনা প্রায় অসম্ভব। এই জলপ্রপাত বর্ষাকালে অত্যন্ত সুন্দর দেখায় যখন মাটি ক্ষয়ের কারণে জলের রং বাদামী বর্ণ লাভ করে। 

তথ্যসূত্র:
1. https://bastar.gov.in
2. bengali.mapsofindia.com
3. Wikipedia
4. www.sangbadpratidin.in

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Saturday, 18 July 2020

সাইক্লোন কী? কেন? কিভাবে?


        সাইক্লোন সমার্থক শব্দ : ঘূর্ণিঝড়। ইংরেজি  Cyclone। নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বিশেষ। এই জাতীয় ঘূর্ণিঝড়কে সাধারণভাবে বলা হয় সাইক্লোন (Cyclone)। গ্রিক kyklos শব্দের অর্থ হলো বৃ্ত্ত। এই শব্দটি থেকে উৎপন্ন শব্দ হলো kykloun। এর অর্থ হলো- আবর্তিত হওয়া। এই শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়েছে kyklōma । এই শব্দের অর্থ হলো- চক্র বা কুণ্ডলিত। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ-ভারতীয় আবহাওয়াবিদ হেনরী পিডিংটন তাঁর সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক গ্রন্থ, The Sailor's Horn-book for the Law of Storms-এতে Cyclone শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। বাংলায় সাইক্লোন শব্দটি গৃহীত হয়েছে ইংরেজি থেকে।



        সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্ট যে কোন  ঘূর্ণিঝড়কেই সাধারণভাবে সাইক্লোন বলা হয়। ভারত মহাসাগরীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরীয় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়কে তিনটি নামে অভিহিত করা হয়। এর ভিতরে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট  ঘূর্ণিঝড়কেই বিশেষভাবে সাইক্লোন বলা হয়। এই ঝড়ের আক্রমণ হয়ে থাকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড-এর উপকূলীয় অঞ্চল।

        অন্যদিকে  আটলান্টিক মহাসাগরীয় ঝড়কে বলা হয় হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।

        অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের মতোই−  এই ঝড়ের সময় বাতাস একটি কেন্দ্র তৈরি করে প্রবল বেগে আবর্তিত হয়। উল্লেখ্য কোনো অঞ্চলের বাতাস অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, ওই অঞ্চলের বাতাস উষ্ণ এবং আর্দ্র অবস্থায় উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে ওই স্থানে বায়ুর শূন্যতার সৃষ্টি। এই শূন্যস্থান পূর্ণের জন্য পার্শ্বর্তী অঞ্চল থেকে শীতল বাতাস  ছুটে আসে। এর ফলে ওই অঞ্চলে একটি বায়ুর ঘূর্ণি তৈরি হয়। এই বিচারে পৃথিবী এবং বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহেও ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। নেপচুনের এই জাতীয় ঝড়কে বলা হয় জাদুকরের চোখ (Wizard's Eye)। মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণিঝড়কে 'গ্রেট রেড স্পট' বলা হয়। পৃথিবীতে এই ঝড়ের ঘূর্ণন-দিক গোলার্ধের বিচারে দুই রকম হয়। এই জাতীয় ঘটনা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সারা বৎসরেই ঘটে। কিন্তু তার অধিকাংশই ঝড়ে পরিণত হয় না। ঘূর্ণিবায়ুর কেন্দ্রের যখন বাতাসের গতির যখন ২৫-থেকে বেশি থাকে তখন ঝড়ের সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড় তিন রকমের হতে পারে। এই রকম তিনটি হলো− সাধারণ ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো এবং সাইক্লোন। স্থলভূমিতে  সাধারণ ঘূর্ণিঝড়  ও টর্নেডো হয়। কিন্তু সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সমূদ্রপৃষ্ঠে।

        সাইক্লোনের সাথে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিম্নচাপ মূখ্য ভূমিকা রাখে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এই নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৬-২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস-এ উন্নীত হলে এবং তা সমুদ্রের উপরিতল থেকে প্রায় ৫০ মিটার তা বজায় থাকলে, সাইক্লোন তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই সময় এই অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণ আর্দ্র বায়ু উপরে দিকে উঠে যায়। আর এই শূন্য স্থান পূর্ণ করার জন্য উভয় মেরু অঞ্চল থেকে বাতাস নিরক্ষরেখার দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবে সৃষ্ট কোরিওলিস শক্তির (coriolis force) কারণে, এ বায়ু সোজাসুজি প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে সৃষ্ট বায়ু প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে থাকে। নিরক্ষরেখার উপর এ শক্তির প্রভাব শূন্য। কাজেই, এ অঞ্চলের তাপমাত্রা  ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূলে থাকলেও নিরক্ষরেখার ০ ডিগ্রী থেকে ৫ ডিগ্রীর মধ্যে কোন  ঘূর্ণিঝড় হতে দেখা যায় না। সাধারণত, নিরক্ষরেখার ১০ ডিগ্রী থেকে ৩০ ডিগ্রীর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।

        সাইক্লোনের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলা হয়। এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও বাতাসের গতি থাকে ২০-২৫ কিলোমিটার/ঘণ্টার ভিতরে। কিন্তু এর বাইরে যে ঝড়ো দেওয়াল তৈরি হয়। তাতে ঝড়ের ক্ষমতা অনুসারে বাতাসের গতি ২৫০-৩০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এই বাতাসের সাথে থাকে অবিরাম প্রচুর বৃষ্টিপাত। একই সাথে সমুদ্র থেকে উত্থিত দেওয়াল সদৃশ্য জলোচ্ছ্বাস। এই জলোচ্ছ্বাস ঝড়ের ক্ষমতা অনুসারে প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সমুদ্রের জোয়ারের সময় জলোচ্ছ্বাস হলে, তা ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করে।

        সাইক্লোন স্থলভাগে আঘাত না হানা পর্যন্ত ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে অগ্রসর হতে থাকে। স্থলভাগে আঘাত হানার পর অল্প সময়ের ভিতর সাইক্লোন দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপরে জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ের দ্বারা আক্রান্ত স্থানটি একটি বিশাল বিধ্বংস অঞ্চলে পরিণত হয়।


ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অঞ্চল ও সময়কাল:
        ঘূর্ণিঝড় উৎপন্ন অঞ্চল হিসেবে ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রগুলিকে সাতটি বেসিন বা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও হুঁশিয়ারী প্রদানের জন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীনে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া বিভাগ কাজ করছে। নিচে সাতটি বেসিনের নাম দেয়া হলঃ

1.উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
2.উত্তর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর
3.উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর
4.উত্তর ভারত মহাসাগর (প্যানেল দেশসমূহঃ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা,মায়ানমার ও থাইল্যান্ড আবহাওয়া বিভাগ)
5.দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর
6.দক্ষিণ পূর্ব ভারত মহাসাগর
7.দক্ষিণ পশ্চিম ভারত মহাসাগর

        প্রতিটি বেসিনে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির মৌসুম ভিন্ন ভিন্ন। উত্তর আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হয় জুনের ১ তারিখ এবং শেষ হয় নভেম্বর ৩০ তারিখে। বাংলাদেশ উপকূলে মূলতঃ বর্ষাকালের শুরুতে এপ্রিল-মে মাসে এবং বর্ষার শেষে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে বর্ষাকালেও বিক্ষিপ্তভাবে ঘূর্ণিঝড় হতে দেখা যায়।

ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণীবিভাগ:
        সাতটি বেসিনেই বাতাসের গতিবেগ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়কে কতগুলো শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। আটলান্টিক এলাকার জন্য, প্রাথমিক অবস্থায় বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ৬২ কি.মি.-র নিচে থাকে, তখন একে শুধু নিম্নচাপ (Tropical depression) বলা হয়। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি.-এ উন্নীত হলে এটিকে একটি নাম দেয়া হয় এবং ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. থেকে ১১৭ কি.মি. ব্যবধানে এটিকে একটি ঝড় বা Tropical storm বলা হয়। বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কি.মি.-এর বেশি হয়, তখন এটি হারিকেন পর্যায়ে উন্নীত হয়। বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী হারিকেনকে আবার এক থেকে পাঁচ মাত্রার ৫ টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আবিষ্কারকের নামানুসারে এটি সাফির-সিম্পসন স্কেল নামে পরিচিত।

        বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতে ঘূর্ণিঝড়কে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তাকে ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯-১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে হ্যারিকেন গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বা ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়।

তথ্যসূত্র:

1. www.wikipedia.org



লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sunday, 12 July 2020

বক্রেশ্বর উষ্ণ প্রস্রবণ (Bakreshwar Hot Water Spring)


         বক্রেশ্বর পশ্চিমবঙ্গের  বীরভূম জেলার  সিউড়ি সদর মহকুমার দুবরাজপুরে অবস্থিত। বক্রেশ্বর হ'ল গরম জলের ঝর্ণার অর্থাত উষ্ণ প্রস্রবণগুলির জন্য বিখ্যাত। বক্রেশ্বরের স্থানাংক ২৩.২৮° উত্তর ৮৭.৩৭° পূর্ব । বীরভূমের শুষ্ক পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা ৮৪ মিটার। এটি বক্রেশ্বর নদের তীরে অবস্থিত।

        বক্রেশ্বর শব্দটি এসেছে স্থানীয় বক্রেশ্বর শিবের নামানুসারে। বক্র শব্দটির অর্থ বাঁকা; ঈশ্বর অর্থে ভগবান। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সত্যযুগে লক্ষ্মী  ও নারায়ণের  বিবাহ অনুষ্ঠানে সুব্রত মুণি দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক অপমানিত হন। ক্রুদ্ধ ঋষির দেহ আটটি বাঁকে বেঁকে যায়। তিনি অষ্টবক্র ঋষি নামে পরিচিত হন। বহুবছর শিবির  তপস্যা করে ঋষি সুস্থ হয়ে ওঠেন। বক্রেশ্বর ৫১টি শক্তিপীঠের  অন্যতম এবং হিন্দুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ। একারণে অজস্র মন্দির গড়ে উঠেছে বক্রেশ্বরে। কথিত আছে এখানের পড়েছে দেবীর ত্রিনয়ন। দেবী এখানে দশভূজা রূপে পুজিতা হন।

        মন্দিরের পাশেই রয়েছে একাধিক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে উষ্ণ প্রস্রবণের জল পবিত্র এবং যথাযথভাবে ভক্তরা উপাসনা করেন। মনে করা হর এই  উষ্ণ প্রস্রবণের জলে নাকি রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা রয়েছে। প্রায়শই রোগ নিরাময় ও ঈশ্বরিক শক্তি গ্রহণ করার জন্য লোকেদের হাত এবং পা ডুবিয়ে রাখতে দেখা যায়।

        বক্রেশ্বরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর উষ্ণ প্রস্রবণ গুলি। এই শহরে মোট দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। আশ্চর্যের বিষয় কুণ্ডগুলি পাশাপাশি অবস্থান করলেও বিভিন্ন কুণ্ডের জলের তাপমাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।

এখানে যে দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ  রয়েছে সেগুলি হ'ল:
১] পাপহরা গঙ্গা (Paphara ganga)
২] বৈতারিণী গঙ্গা (Baitarini ganga)
৩] খার কুণ্ড(Khar kunda): এই উষ্ণ প্রস্রবণের জলের তাপমাত্রা ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৪] ভৈরব কুণ্ড(Bhairav kunda): এই উষ্ণ প্রস্রবণের জলের ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৫] অগ্নি কুণ্ড(Agni kunda): অগ্নি মানে আগুন। এই উষ্ণ প্রস্রবণের  জলের উষ্ণতা ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এটি সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সিলিকেটস, ক্লোরাইডস, বাইকার্বোনেটস এবং সালফেটসের মত অনেক খনিজ সমৃদ্ধ, যার ঔষধি গুণ রয়েছে বলে জানা যায়। এটিতে তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলিও উপস্থিত  থাকতে পারে।
৬] দুধ কুণ্ড(Dudh kunda): ওজোন ঘন হওয়ার কারণে সম্ভবত এই প্রস্রাবের জল খুব ভোরের দিকে  নিস্তেজ সাদা বর্ণ ধারণ করে। এই উষ্ণ প্রস্রবণের জলের  উষ্ণতা ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৭] সূর্য কুন্ড (Surya kunda):  এই উষ্ণ প্রস্রবণের জলের উষ্ণতা ৬১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়।
৮] শ্বেত গঙ্গা (Shwet ganga)
৯] ব্রহ্ম কুন্ডা (Brahma kunda)
৯] অমৃত কুন্ড (Amrita kunda)

         অগ্নিকুণ্ডটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, এর জলে অনবরত হিলিয়াম গ্যাস বেরোচ্ছে। চারিদিকে ডিম সেদ্ধর মতো গন্ধ। বর্তমানে ভারত সরকারের আণবিক পরীক্ষা বিভাগ এখান থেকে হিলিয়াম গ্যাস সংগ্রহ করছে। কুণ্ডটি তাদের তত্ত্বাবধানে সুন্দরভাবে রক্ষিত। কাউকে জলের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। ওপর থেকে দড়িতে ঘটি বা বালতি ঝুলিয়ে জল তুলে নিয়ে বোতলে ভরে ‘তীর্থসলিল’ নামে বিক্রি হয়। বহু রোগ, বাত-ব্যাধি, হাঁপানি এমনকি অম্বলও নাকি ভাল হয়ে যায় এই জল খেলে।

        কুণ্ডগুলির জল কাচের মতো পরিষ্কার, গভীরতা দেড়-দু’হাতের বেশি নয়। শীতল সরোবরের ঘাট বাঁধানো–- মকরমুখ থেকে গরমজল ঝরে পড়ছে। মহিলা ও পুরুষদের আলাদাভাবে স্নানের ব্যবস্থা রয়েছে। তেল ও সাবান মাখা নিষিদ্ধ। কুণ্ডসমূহের জল পাপহরা নদীতে পড়ে বক্রেশ্বর নদের সঙ্গে মিশে গেছে।

        একাধিক উষ্ণ জলের কুণ্ডু, উষ্ণ প্রস্রবণ আর বক্রেশ্বর শিবকে ঘিরেই মূলত বক্রেশ্বরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে।

        প্রসঙ্গত, জানিয়ে রাখি  পানাগড়-মোরগ্রাম জাতীয় সড়ক থেকে মল্লারপুর লাগোয়া মেটেলডাঙা গ্রাম যাওয়ার পথে বছর ন’য়েক আগে উষ্ণ জলের ওই উৎসের সন্ধান মেলে। ২০০৯ সালে ‘সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড’ ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় পাইপ বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জলের অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধান শেষে তারা মেটেলডাঙা গ্রামের কাছে একটি পাইপ পোঁতা অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরবর্তী কালে গ্রামবাসীরা দেখেন, ওই পাইপ থেকে অবিরাম ধারায় গরম জল উপচে পড়ছে। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দূর-দূরান্তের মানুষজনও গরমজল হাতে নিয়ে পরখ করার জন্য হাজির হন। শুধু মেটেলডাঙা নয় খরাসিনপুরে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও একটি উষ্ণ জলের ধারা। অনুসন্ধান চালালে বক্রেশ্বরের মতোই এখানেও আরও গরম জলের কুণ্ডু কিংবা প্রস্রবণের ইঙ্গিত দিচ্ছে খরাসিনপুরের ওই গরম জলের ধারাটি। ময়ূরেশ্বর - ১ বিডিও  পঞ্চায়েত সমিতির দেওয়া তথ্য অনুসারে জানা গেছে ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোজোন ডিপার্টমেন্ট মেটেলডাঙা এবং খরাসিনপুরের গরম জলের নমুনা পরীক্ষা করে জানিয়েছিল বক্রেশ্বরের তুলনায় তাতে হিলিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি রয়েছে।

*************************************
তথ্যসূত্র:
1. https://wikipedia.org
2. www.thewall.in
3. www.anandabazar.com


লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Saturday, 11 July 2020

ভারতীয় জ্যোতির্বিদ : আর্যভট্ট(Aryabhatta) (476– 550)


            র্যভট্ট ছিলেন প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতিরবিদদের মধ্যে একজন। উনার অবদানের জন্য সারা পৃথিবী চিরকাল স্মরণ করবে। উনি গণিত, মহাকাশ নিয়ে গভীর চর্চা করেছিলেন।

     
         আর্যভট্ট ৪৭৬ খিষ্টাব্দে ভারতবর্ষের পাটালিপুএের কুসুমপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তবে তাঁর জন্মস্থান নিয়ে অনেক মতভেদ আছে।

            ঐ সময় ভারতে গুপ্ত যুগের শাসন চলছিল (৩২০-৫৫০খ্রীঃ)। সম্রাট ছিলেন বুদ্বগুপ্ত (শাসন কাল ৪৭৬-৪৯৫ খ্রীঃ)। যেহেতু ঐ সময় সারা দেশে একটা যুগের পরিবর্তন হচ্ছিল, হয়তো সে কারণে আর্যভট্টের জন্মস্থান বা উনার দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে একেবারে সঠিক কোন তথ্য আমরা পাই না। হয়তো উনি লিখে গেছেন কিন্তু আমরা তা এখনো খুঁজে পাইনি, কিংবা তা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। যেমন হারিয়ে গেছে উনার লেখা অর্ধ-রাত্রিকা (মধ্যরাত্রি)।

           আর্যভট্টের অন্যতম ভাষ্যকার প্রথম ভাস্করের ভাষ্য অনুযায়ী তার জন্ম হয়েছিল অশ্মকা নামের একটি জায়গায়। প্রাচীন বৌদ্ধ এবং হিন্দু রীতিতে এই জায়গাটিকে নর্মদা এবং গোদাবরী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে দক্ষিণ গুজরাট এবং উত্তর মহারাষ্ট্রের আশেপাশের একটি জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

        যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা বিশ্লেষণ করে আবার কেউ বলছেন কুসুমপুরা, যা বর্তমানে পাটনা। কেউ বলছেন উনি প্রাচীন কেরালার কডুনগলুর এ জন্ম গ্রহণ করেন। তবে উনি কুসুমপুরাতে ( বর্তমান পাটনা) উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নাই।


        কিছু তথ্যমতে জানা যায় যে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কুসুমপুরায় গিয়েছিলেন। তিনি কুসুমপুরায়ই বসবাস করতেন, তার ভাষ্যকার প্রথম ভাস্কর এই স্থানকে পাটলিপুত্র  নগরী অভিহিত করেছেন। তিনি কুসুমপুরের আর্যভ নামে খ্যাত ছিলেন। তাঁর কাজের অধিকাংশই তিনি করেছিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানেই তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিক্ষাশেষে তিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। কেউ কেউ বলেছেন, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবেও আর্যভট্ট দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময়ে নালন্দাতে মহাকাশ বিজ্ঞান পড়ানো হত।

        পৃথিবীর বর্তুলতা ও আহ্নিক গতির কথা তিনিই প্রথম বলেন এবং তার গণিত দিয়ে প্রমাণ করেন। চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমরা সর্বপ্রথম উনার কাছ থেকেই পাই। যখন উনার বয়স মাত্র ২৩ বছর তখন উনার বিখ্যাত বই আর্যভটিয়া প্রকাশিত হয়। বইটি ছিল কবিতার ছন্দে। পরে ১৩ শতাব্দীতে এই বইটি ল্যাটিন ভাষাতে অনুবাদ করা হয়।

         আর্যভট্টের রচিত আর্যভটিয়া। এটি রচিত চার খণ্ডে, মোট ১১৮টি স্তোত্রে। বইটিতে মোট চারটি অধ্যায় ছিল। এই চারটি অধ্যায়‌ হল  দশগীতিকা, গণিতপাদ, কালক্রিয়াপদ ও গোলপাদ। দশগীতিকা, কালক্রিয়া ও গোলপাদ অধ্যায়ে গোলীয় ত্রিকোণমিতি ও জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত বিষয়াবলী রয়েছে। অন্যদিকে গণিত পাদে আছে পাটীগণিত, বীজগণিত, সমতল ত্রিকোণমিতি, দ্বিঘাত সমীকরণ, প্রথম n সংখ্যক স্বাভাবিক সংখ্যার ঘাতবিশিষ্ট পদ সমূহের বর্গ ও ঘনের সমষ্টি এবং একটি সাইন অণুপাতের সারণি রয়েছ। তাছাড়া এই অধ্যায়ে সে সময়কার জনপ্রিয় জ্যোতিষচর্চার প্রয়োজনীয় ৩৩টি গাণিতিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে। গণিতপাদে আর্যভট্ট পাই-এর মান তথা বৃত্তের পরিধির সঙ্গে এর ব্যাসের মান ৩.১৪১৬ হিসাবে চিহ্নিত করেন। তিনি ভারতবর্ষে শূন্যের প্রচলন করেন।


১ম অধ্যায়ঃ দশগিতিকপডা (Gitikapada)
এই অধ্যায়ে উনি সময়ের বিশাল একক নিয়ে আলোচনা করেন। যেমন কল্প, মনবন্ত্রা , যুগ ইত্যাদি।
কল্পঃ হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে ৪৩২ কোটি বছরে ১ কল্প।
মনবন্ত্রাঃ এটি একটি যুগ্ম শব্দ। মনু এবং অন্তরা একত্রে মনবন্ত্রা। ইহা আসলে এক মনু রাজার জীবন কাল। ১৪ মনবন্ত্রা মিলে এক কল্প।
যুগঃ হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে সত্যযুগ ১,৭২৮,০০০ বছর, ত্রেতা যুগ ১,২৯৬,০০০ বছর , দ্বাপর ৮৬৪,০০০ বছর আর কলি যুগ ৪৩২,০০০ বছর। বিন্দু বিন্দু সময় জমে এক মহাকাল তৈরী হয়েছে, ইহাই এই প্রথম অধ্যায়ের বিষয়। মহাকালকে পরিমাপ করার বর্ণনা এখানে পাওয়া যায়।

২য় অধ্যায়ঃ গনিতপডা (Ganitapada)
এই অধ্যায়ে আছে গণিত, পরিমাপ বিদ্যা, ভূগোল , গণিতের সূত্র ইত্যাদি।

৩য় অধ্যায়ঃ কালক্রিয়পডা (Kalakriyapada)
এই অধ্যায়ে সময়ের ক্ষুদ্র হিসাব নিয়ে ব্যাখ্যা আছে। যেমন দিন, সপ্তাহ, বছর ইত্যাদি।
৪র্থ অধ্যায়ঃ গোলপডা(Golapada)
এই অধ্যায়ে আছে গণিত, জ্যামিতি, গ্রহাদির কক্ষপথ, গ্রহণ , পৃথিবীর আকৃতি ইত্যাদির বর্ণনা।

        এই বইটিতে আর্যভট্ট যা ব্যাখ্যা করেন তাইই পশ্চিমী বিজ্ঞানীরা প্রায় ১০০০ বছর পরে ব্যাখ্যা করেন। আমরা বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় যেহেতু পশ্চিমকেই অনুকরণ করি তাই আমরা পশ্চিমকেই বেশী জানি। তবে গ্রীকরা ঐ সময়ও আর্যভট্টকে খুব কদর করত এমন অনেক তথ্য পাওয়া যায়।


জ্যোতির্বিদ্যায় আর্যভট্টের অবদান:
             আর্যভট্টীয় বইটির গোলপাদ অংশে আর্যভট্ট উদাহরণের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে পৃথিবী নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘোরে। তিনি পৃথিবীর আক্ষিক গতির হিসাবও করেছিলেন। তার হিসেবে পৃথিবীর পরিধি ছিল ৩৯,৯৬৮ কিলোমিটার, যেটা সে সময় পর্যন্ত বের করা যেকোন পরিমাপের চেয়ে শুদ্ধতর (ভুল মাত্র ০.২%)। সৌর জগৎে গ্রহগুলোর কক্ষপথের আকৃতি তার ভাষ্যে ছিল উপবৃত্তাকৃতির, এক বছর সময়কালের প্রায় সঠিক একটি পরিমাপ করেছিলেন, সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের সঠিক কারণ উল্লেখ করা এবং তার সময় নির্ধারণ করা। তিনি সৌরজগতের পৃথিবীকেন্দ্রিক নাকি সূর্যকেন্দ্রিক মডেল ব্যবহার করেছিলেন সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। B.L. van der Waerden, Hugh Thurston এর লেখায় আর্যভট্টের জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত হিসাব নিকাশের পদ্ধতিকে সরাসরি সূর্যকেন্দ্রিক বলে দাবি করা হয়েছে। Noel Swerdlow অবশ্য এ জন্য B.L. van der Waerden এর প্রত্যক্ষ সমালোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে আর্যভট্টের ধারণায় সৌরজগত পৃথিবীকেন্দ্রিকই ছিল। অপর দিকে Dennis Duke এর মতে, আর্যভট্টের কাজের পদ্ধতি সূর্যকেন্দ্রিক ছিল, তবে সেটি আর্যভট্ট লক্ষ করেননি কিংবা জানতেন না।

        আর্যভট্ট সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের হিন্দু পৌরাণিক ধারণার পরিবর্তে প্রকৃত কারণগুলো ব্যাখ্যা করে গেছেন। সেই সাথে তিনি সূর্য গ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল নির্ণয়ের পদ্ধতিও বের করেছিলেন। আর্যভট্ট বলেছিলেন যে চাঁদের আলো আসলে সূর্যের আলোর প্রতিফলনেরই ফলাফল। জ্যোতিষবিদ্যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো বিভিন্ন গ্রহের গতিবিধি, গ্রহনের কারন, পৃথিবীর আহ্নিকগতি ব্যাখ্যা এবং পৃথিবীর গোলকত্বের প্রমাণ করা।

        ভাবতে আশ্চর্য লাগে কপারনিকাসের জন্মের হাজার বছর আগে আর্যভট্ট প্রথম সৌরকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বের অবতারনা করেন। সেই সময় কোন যন্ত্রপাতি ছাড়াই তিনি ধারনা করতে পেরেছিলেন পৃথিবী গোলাকৃতি ও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। চন্দ্র সম্পর্কেও তিনি সঠিক ধারনা দেন।

        আকাশের জ্যোতিষ্ক সমূহের পশ্চিমাভিমুখে গমন সম্পর্কে তিনি একটি চমৎকার বাস্তব উদাহারণ দেন, " পূর্বদিকে গতিযুক্ত কোন নৌকারোহী নদীর দুই তীরের স্থির বৃক্ষরাজিকে যেমন পশ্চিমাভিমুখে যেতে দেখে তদ্রুপ পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ফলেই একজন পযর্বেক্ষক আকাশের জ্যোতিষ্কসমূহকে পূর্বদিকে উদিত হতে এবং পশ্চিম দিকে অস্তমিত হতে দেখে"।

        গণিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো পাই এর মান বের করা। তিনি চার দশমিক পযর্ন্ত পাই এর মান বের করে। আমরা জানি যে, পাই এর মান এমন একটি সংখ্যা যা আর্কিমিডিসের সময় হতে বর্তমান কম্পিউটার যুগেও সঠিক ভাবে নিণর্য় করা যায় নি। গণিতে তার আরেক অবদান হলো এিকোণমিতির ব্যবহার, এমনকি তাঁর হাতেই বীজগণিতের সূএপাত হয়। প্রচুরক এর গাণিতিক ধারণা তাঁরই মস্তিষ্ক প্রসূত। তাঁর যুগে তিনি সমসাময়িক গ্রিক গণিতবিদের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। বর্গমূল, ঘনমূল নির্ণয় প্রণালি, দ্বিঘাত সমীকরনের সমাধান,  সমান্তর শ্রেণীর যোগফল বের করার পদ্ধতি তিনি বের করেন। পরে এসব বিদেশি গণিতবিদের দ্বারা নবরুপ লাভ করে। এিভুজের ক্ষেএফল বের করার পদ্ধতিও তিনিই আবিষ্কার করেন।


 আর্যভট্টের মহান অবদানের জন্য আমরা উনার কাছে চির ঋণী। তাঁর অবদান গুলি এক নজরে :

ক) উনি আমাদের ০ (zero ) এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও ইতিহাসে ভারতীয় মহান গণিতজ্ঞ ব্রহ্মগুপের (জীবনকাল ৫৯৮ – ৬৭০ খ্রীঃ) লেখা বই ব্রহ্মস্পুতসিদ্বান্তে (Brahmasphuṭasiddhanta) প্রথম শূন্যের লেখা পাওয়া যায় , অনেক গণিতজ্ঞ এবং ইতিহাসকার মনে করেন যে আর্যভট্ট উনার ২৩ বছর বয়সে যে বই প্রকাশ করেন তা ব্রহ্মগুপের জীবনকালের আগে আর সেই বইতে বর্ণিত গণিত সূত্র শূন্যের সুন্দর প্রয়োগ আছে।যদিও এটা ঠিক যে অতি প্রাচীন মুনি-ঋষিরা ও শূন্য সম্পর্কে জানতেন। তেমনি ব্যাবলীয়ান সভ্যতা ও শূন্য সম্পর্কে ধারনা রাখতেন।

খ ) আর্যভট্ট ৫ম শতকে পাই (Pie, π ) এর সঠিক মান নির্ধারণ করেন এবং তার সাহায্যে বৃত্ত, ত্রিভুজ এর মান বের করেন। মনে রাখতে হবে তার ১২০০ বছর পর ১৭০৬ খ্রীঃ গণিতবিদ উইলিয়াম জোন্স π এর মান ব্যবহার করেন আর তাকেই π এর জন্মদাতা বলা হয়। কিভাবে আর্যভট্ট ‘পাই’ এর মান বের করে ছিলেন বা বৃত্তের পরিধি মেপে ছিলেন? উনার সূত্র অনুসারে ১০০ এর সাথে ৪ যোগ কর। তাকে ৮ দিয়ে গুন কর। এর সাথে ৬২০০০ যোগ কর। এবার তাকে ২০০০০ দিয়ে ভাগ কর। যে সংখ্যা পাওয়া যাবে তার সাথে বৃত্তের ব্যাস গুন করলে সদাই বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। আর এই সংখ্যাটি হল ৩.১৪১৬। যা বর্তমানে ‘পাই’ এর মান। তেমনি তিনি ত্রিভুজ, বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করার সূত্র বর্ণনা করেন। যা আধুনিক বিজ্ঞান প্রায় ১০০০ বছর পরে বের করে।

গ ) মনে রাখতে হবে তিনি ঐ সময়ে নিজের সূত্র অনুসারে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করে ছিলেন ২৪৮৩৫ মাইল। আধুনিক বিজ্ঞানে পৃথিবীর পরিধি ২৪৯০২ মাইল। অর্থাৎ আর্যভট্টের সংখ্যা থেকে মাত্র ৬৭ মাইল বেশী।

ঘ ) তিনি তাঁর সূত্রের সাহায্যে ৫ম শতকে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারিদিকে ঘুরে এবং ৩৬৫ দিনে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসে। এর প্রায় ৯০০ বছর পর বিখ্যাত নিকোলাস
কোপারনিকাসের সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। শাসক ও ধর্মগুরুদের সিদ্ধান্ত ছিল উল্টা। ফলে উনাকে কারাগারে বন্দী করা হয় এবং তাকে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ভাবে সাজা দেওয়া হয়। তিনি তার সিদ্ধান্ত পাল্টান নি। শেষে তাকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়।

ঙ ) আর্যভট্ট তার বইতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে গ্রহরা সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণ শুধু আলো-ছায়ার খেলা।

চ ) তিনি তার সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে গ্রহের কক্ষপথ হচ্ছে ডিম্বাকার। যা আধুনিক বিজ্ঞান অনেক পরে জানতে পারে।

ছ ) যখন ত্রিগোনমিতির নাম-গন্ধ ছিল না, তখন তিনি তার সূত্রের সাহায্যে sine, cos এর মান বের করেছিলেন। যাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন অর্ধ-জ্যা(half-chord)। অনেক পরে আধুনিক বিজ্ঞানে ত্রিগোনমিতি আসে।

জ ) আজকেও আমরা যে পঞ্জিকা বা পঞ্চগ্রাম ব্যাবহার করি, তার সূত্র এবং সিদ্ধান্ত আর্যভট্টেরই দান। এমনকি ইরান এবং আফগানিস্তানের জাতীয় ক্যালেন্ডারে আজো আর্যভট্টের সূত্র ব্যবহৃত হয়।

ঝ) এছাড়া ও উনার অনেক সূত্র, সিদ্ধান্ত বর্তমান যুগে বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে ব্যবহৃত হয়।

         আর্যভট্টের সুখ্যাতি শুধু ভারতেই নয়, প্রতিটি সভ্য দেশে সম্মানের সাথে তার নাম উচ্চারিত হত।

        এই মহান ভারতীয়কে সম্মান জানাতে ভারতের প্রথম উপগ্রহের নাম রাখা হয় আর্যভট্ট। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল তারিখে কাপুস্টিন ইয়ার থেকে কসমস-3এম লঞ্চ ভেহিকলের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক উৎক্ষেপিত হয় এই যানটি। বিহার সরকার এনাকে সম্মান জানাতে, পাটনাতে উনার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করেন ‘The Aryabhata Knowledge University (AKU)’ । এই মহান ব্যক্তির অনেক লেখা আজো খুঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো তা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। তা না হলে আমরা হয়তো আরো অনেক রহস্য জানতে পারতাম। তিনি  ৫৫০ সালে আমাদের ছেড়ে পরলোকগমন করেন।

*****************************************
তথ্যসূত্র:
1. http://riyabutu.com
2. https://ritambangla.com
3. https://bigyan.org.in
4. https://ebela.in
5. https://voboghurekotha.com
6. https://bn.m.wikipedia.org

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালবৈশাখী (Norwesters)

            কাল’ শব্দটির অর্থ ধ্বংস এবং মূলত বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয় ।

            কালবৈশাখী একটি স্থানীয় বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড় যা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও উত্তর পূর্ব ভারতে মার্চ থেকে কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়। অনেকসময় এই ঝড় জীবনঘাতি রূপ ধারণ করে। গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এ ঝড়ের আগমন ঘটে। কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিমি-এর বেশিও হতে পারে। কালবৈশাখীর স্থায়িত্বকাল স্বল্পতর, তবে কখনও কখনও এ ঝড় এক ঘণ্টারও বেশিকাল স্থায়ী হয়।  কালবৈশাখীর সময়ে যেকোন প্রকার বায়ুজান চালানো বিপদজনক। বিমানচালকেরা কালবৈশাখী ঝড়কে এড়িয়ে চলে। যদিও কালবৈশাখীর সময়কার বৃষ্টিপাত বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার ধান, পাট এবং আসামের চা চাষের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করে।

সংঞ্জা: গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ মূলত এপ্রিল – মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাঝে মাঝে বিকালের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে প্রচন্ড ঝড়-ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী (Kalboishakhi) বলে ।

 বৈশিষ্ট্য :
1) বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ ঘটে।
2) সাধারণত মার্চ মাসে দেখা যায়।
3) স্থিতিকাল ১-২ মাস
4) এপ্রিল মাসের পর এর বিলুপ্তি ঘটে।
5) প্রভাবিত অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা  ৫°C – ১০°C হ্রাস পায়
6) ঘূর্ণিঝড় এর গতিবেগ মোটামুটি ৮০ – ১০০ কিমি / ঘণ্টা।
7) ঘূর্ণিঝড় প্রাদুর্ভাবের স্থিতিকাল ৩০-৪০ মিনিট হয়ে থাকে।
8) বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ
১৫০ কিমি / ঘণ্টা।
9) মাঝে মাঝে শিলাবৃষ্টি হয়।10) হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত হয়।
11) প্রভাবাধীন অঞ্চলে গাছপালা, বাড়িঘর প্রভৃতি ভেঙে পড়ে প্রাণহানিসহ প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়।

প্রভাবিত অঞ্চল:
            মূলত পশ্চিমবঙ্গসহ বিহার, উড়িষ্যা, ঝাড়খন্ড, অসমের অঞ্চলবিশেষ ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কালবৈশাখী দ্বারা প্রভাবিত হয়।

 নামকরণ :
            কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়। গ্রীষ্মকালে বা এপ্রিল – মে মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে মাঝে মধ্যে বিকালের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি হয় তাকে কালবৈশাখী বলে। কালবৈশাখী ঝড় উত্তর – পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার (Norwester) বলা হয়।

 কালবৈশাখীর কারণ:
            এই অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠস্থ অত্যধিক গরম হলে বাতাস হালকা ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। উত্তপ্ত হালকা বাতাস সোজা উপরে উঠে শীতল হয়ে কিউমুলাস মেঘ সৃষ্টি করে। বায়ুমন্ডলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কিউমুলাস মেঘ উল্লম্বভাবে কিউমুলোনিম্বাস নামক কালো মেঘ গঠন করে এবং পরবর্তী সময়ে বজ্রঝড়ের সৃষ্টি করে। সাধারণ ঝড়ের সংগে এই ঝড়ের প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এ ঝড়ের সঙ্গে সবসময়ই বিদ্যুৎ চমকায় ও বজ্রপাত হয়।

 কালবৈশাখীর জীবনচক্র :
            কালবৈশাখীর জীবনচক্রকে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়। ধাপগুলি ঊর্ধগামী অথবা নিম্নগামী বায়ুস্রোতের মাত্রা এবং গতিবিধি দ্বারা নির্ণীত হয়ে থাকে। কালবৈশাখীর পর্যায়গুলি হচ্ছে:

1) কিউমুলাস বা ঘনীপূঞ্জীভবন পর্যায়,
2) পূর্ণতা পর্যায় এবং
3) বিচ্ছুরণ পর্যায়।

            একটি কালবৈশাখী পূর্ণতা লাভের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর এর তীব্রতা হ্রাস পেতে শুরু করে বিচ্ছুরণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। অতি দ্রুত হারে তাপমাত্রা হ্রাস, মেঘে প্রচুর জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং বায়ুর পুঞ্জীভূত ঊর্ধ্বচলনের দরুণ কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে, শিলাবৃষ্টি অতিরিক্ত হলে ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।

*****************************************
তথ্যসূত্র:
1. https://www.anandabazar.com
2. www.eisamay.indiatimes.com
3. https://bn.m.wikipedia.org

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Friday, 10 July 2020

বজ্রপাত(Lightning)

          জ্রপাত প্রকৃতির সবচেয়ে ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্য গুলোর মধ্যে একটি। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান মাত্রার স্ফুলিঙ্গ আর ভয়াবহ গর্জন বহুকাল ধরেই মানুষের পিলে চমকানোর কাজটি দায়িত্বের সাথে পালন করে আসছে।

      বজ্রপাতের এই ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের সাথে সাথে আমাদের মনে বিজ্ঞানের আরেকটি চিরন্তন রহস্যের জন্ম দেয়, বজ্রপাতের কারণ কি? ছোটবেলায় এই প্রশ্নের আমরা উত্তর পেয়েছি এভাবে মেঘে মেঘে সংঘর্ষের ফলে বজ্রপাত হয়। বজ্রপাত নিয়ে নানা ধরনের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, এটা সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক ব্যাপারে। যেখানে মানুষের কোন হাত নেই।

         আর্দ্র ও উত্তপ্ত আবহাওয়ায় বায়ু যখন দ্রুতগতিতে ঠান্ডা হয় তখন বাতাসের জলীয় বাষ্পে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। বজ্রমেঘের মধ্যে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের ফলে জলীয়বাষ্পে একই সময়ে একই সাথে শিশির বিন্দু, বৃষ্টিকণা ও তুষারকণার সৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিকণা ও তুষারকণার দ্রুত সংঘর্ষে স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনাটি যেহেতু বিশাল মেঘমালার মধ্যে ঘটে, তাই এর ফ্রিকোয়েন্সি, পরিমাণ এবং সংঘর্ষে সৃষ্ট শব্দের পরিমাণও অনেক বেশি হয়। এই বিদ্যুৎ প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপ উৎপন্ন করে। তাই এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এত বেশি হয়।


বজ্রপাতের কারণঃ

            বায়ুমন্ডলের উপরের অংশে নিচের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকে। এ কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে, নিচের দিক থেকে উপরের দিকে মেঘের প্রবাহ হয়। এ ধরনের মেঘকে থান্ডার ক্লাউড বলে। অন্যান্য মেঘের মত এ মেঘেও ছোট ছোট  জলকনা থাকে। আর উপরে উঠতে উঠতে জলের  পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতে জলের  পরিমান যখন ৫ মিঃমিঃ এর বেশি হয়, তখন জলের  অণুগুলো আর পারস্পারিক বন্ধন ধরে রাখতে পাড়ে না। তখন এরা আলাদা হয়ে যায়। ফলে সেখানে বৈদ্যুতিক আধানের এর সৃষ্টি হয়। আর এ আধানের মান নিচের অংশের চেয়ে বেশি হয়। এরকম বিভব পার্থক্যের কারণেই ওপর হতে নিচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন হয়। এ সময় আমরা আলোর ঝলকানি বা ব্রজপাত দেখতে পাই।


            জলচক্রের নিয়মে জলাধারের জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘ আকারে আকাশে জমা হয়। এই মেঘ-ই হল বজ্রপাতের ব্যাটারি। বজ্রপাতের জন্য দায়ী মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের আধারের মত আচরণ কর। যার উপরের অংশ পজিটিভ এবং নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জে চার্জিত থাকে। মেঘ কিভাবে চার্জিত হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বেশ মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত মতবাদ হচ্ছে, জলচক্রে জলকণা যখন ক্রমশ উর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে তখন তারা মেঘের নিচের দিকের বেশি ঘনীভূত বৃষ্টি বা তুষার কণার সাথে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়।

        যার ফলে উপরের দিকে উঠতে থাকা অনেক বাষ্প কণা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। এই মুক্ত ইলেকট্রন গুলো মেঘের তলদেশে জমা হয় এবং ইলেকট্রন হারানো পজিটিভ চার্জিত বাষ্পকণা মেঘের একেবারে উপরপৃষ্ঠে চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে মেঘগুলো শক্তিশালী ধারক বা ক্যাপাসিটর এর বৈশিষ্ট্য লাভ করে। মেঘের দুই স্তরে চার্জ তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের শক্তি মেঘে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।

        এভাবে বাষ্পকণা ও মেঘে সংঘর্ষ চলতে চলতে মেঘের উপরে এবং নিচে যথাক্রমে পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে এতটাই শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরী করে যে তার বিকর্ষণে পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থানরত ইলেকট্রন গুলো ভূপৃষ্ঠের আরো গভীরে চলে যায়। ফলাফলস্বরূপ ওই নির্দিষ্ট এলাকার ভূপৃষ্ঠ শক্তিশালী পজিটিভ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এখন বজ্রপাতের জন্য শুধু যা প্রয়োজন তা হল বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য সামান্য একটু বাহক বা কন্ডাক্টর। কিন্তু আমরা জানি বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী, তাহলে বজ্রপাত কিভাবে হবে?


        মেঘের বিপুল শক্তিশালী বিদ্যুতক্ষেত্র তার চারপাশের বাতাসের অপরিবাহী ধর্মকে নষ্ট করে দেয়। যাকে বলে Dielectric Breakdown। মেঘে অবস্থিত বিদ্যুতক্ষেত্র যখন যথেষ্ঠ শক্তিশালী হয়(প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০,০০০ ভোল্ট), তখন তার আশেপাশের বাতাস পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়নিত বাতাস প্লাজমা নামেও পরিচিত। বাতাস আয়নিত হয়ে মেঘ এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্ট সার্কিট তৈরী করে দেয় এবং বজ্রপাত ঘটায়।

বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন হয় কেন?
            Discharge হওয়ার সময় বাতাসের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, একে বলা হয় Air breakdown । এসময় বাতাসের যে চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তার তাপমাত্রা প্রায় 27000°c (যা সূর্যের তাপমাত্রার থেকেও বেশি) এ উন্নতি হয় এবং বাতাসের চাপ স্বাভাবিক চাপ থেকে ১০-১০০ গুন পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ চাপ ও তাপমাত্রায় পৌছাতে সময় লাগে মাত্র এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ। এত কম সময়ে তাপমাত্রা ও চাপের এত ব্যাপক পরিবর্তন চারপাশে বায়ু মণ্ডলকে প্রচণ্ড গতিতে (বিষ্ফোরণের মত) সম্প্রসারিত করে। এ সময়ে যে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয় সেটাই আমার শুনতে পাই।


বজ্রপাতে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ :
            ভূমি থেকে 3 মাইল দূরত্বে বজ্রপাত গড়ে এক বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন করে। একটি ১০০ ওয়াট বাল্ব ১ সেকেন্ড জ্বালাতে শক্তি খরচ হয় ১০০ জুল। সে হিসেবে, ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি দিয়ে ওই ঐ বাল্বকে 1160 দিন বা প্রায় 39 মাস অবিরাম জ্বালানো যাবে । বৈদ্যুতিক শক্তি পরিমাপক  একক "কিলোওয়াট-আওয়ার" হিসেবে এ শক্তি 27840 কিলোওয়াট-আওয়ার। ধরা যাক একটি  পরিবার প্রতি মাসে গড়ে প্রায় 100-150 ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তার মানে একটি বজ্রবিদ্যুৎ এর শক্তি জমা করতে পারলে একটি  পরিবার 185 মাস বা প্রায় 15 বছর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে।

কেন বাজ পড়ে

• কোনও এলাকায় তাপমাত্রা বেশই থাকলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়।
• এই মেঘ উচ্চতায় অনেক বেশি হয়।
• মেঘের ভিতর জলীয়বাস্প তথা জলাকনার তীব্রবেগে ঘুরতে থাকায় তড়িতকণা তৈরি হয়।
• দুটি বিপরীত তড়িতকণা মিলে গেলেই বজ্রপাত এবং বিদ্যুত ঝলকানি তৈরি হয়।

আসুন জেনে নেওয়া যাক  বজ্রপাতের সময় আমরা কি ভাবে বাঁচতে পারি। বজ্রপাতের আমাদের বাঁচার উপায়গুলো:

৹ বজ্রপাতের সময় উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বিদ্যুৎস্পর্শের আশঙ্কা বেশি থাকে। এসময় গাছ বা খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। তাই এসব স্থান এড়িয়ে চলুন।

৹ ঘন ঘন বজ্রপাতের সময় খোলা বা উঁচু জায়গায় না থেকে  দালানের নিচে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতের সময় ঘরের জানালার কাছে উঁকিঝুঁকি মারা থেকে বিরত থাকুন।

৹ বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ, জানালার গ্রিলসহ যেকোন ধাতব পদার্থ সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় মোবাইল ও ল্যান্ডফোন ব্যবহার থেকেও বিরত থাকুন।

৹ বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব ধরনের যন্ত্রপাতি এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাতের আভাস পেলে যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও স্পর্শ করা ঠিক হবে না।

৹ বজ্রপাতের সময় গাড়িতে থাকলে দ্রুত বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করুন। যদি প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়, তাহলে গাড়ি কোনও গাড়িবারান্দা বা পাকা ছাউনির নিচে রেখে অপেক্ষা করুন।

৹ প্রতিটি বাড়ি বা বিল্ডিং এ বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন। খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।

৹ কোন বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সাবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান। ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে অতি জরুরী প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন এবং প্লাষ্টিক বা কাঠের হাতলযক্ত ছাড়া ব্যবহার করুন।

৹ বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন। বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকের মত করেই চিকিৎসা করতে হবে।

৹ কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা বা জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। নৌকা নিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকায় ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।

৹ বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়ীটিকে নিয়ে কোন কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন অথবা গাড়ীতে থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

৹ অনাকাঙ্খিত বজ্রপাত থেকে বাড়িঘর রক্ষার জন্য বজ্র নিরোধক দন্ড ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির ছাদের চেয়ে উঁচু করে ধাতব দন্ডের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত পুতে রাখা হয় এবং এই দন্ডকেই বজ্র নিরোধক বলে।

            এছাড়া বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলেও খেয়াল রাখতে হবে। কেউ আহত হয়ে থাকলে দেরি না করে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে ঘটনার সময় খালি হাতে স্পর্শ করলে নিজেও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বের হতেই হয়, রাবারের গামবুট এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করবে।

            কীভাবে বোঝা যাবে বাজ পড়ে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন কিনা? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সাধারণত আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন অংশে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন থাকে। এমনকী পোশাকও জ্বলে যেতে পারে। বাজ পড়ে মূলত মানুষ কার্ডিয়াক বা রেসপিরেটরি অ্যারেস্ট হয়ে মারা যান বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে কেউ বাজ পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাড়িস্পন্দন পরীক্ষা করে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করার চেষ্টা করতে হবে।

            বজ্রপাত এর কোন পূর্বাভাস বিজ্ঞান আজও দিতে পারেনি। তবে আবহওয়াবিদরা বলেন, বেশি গাছপালা থাকলে বজ্র গাছের মধ্যে পড়লে জনমানুষের ক্ষতি কম হয়। বিষয়টি যে পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতে প্রতি বছরই অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তবে ইদানিং এর মাত্রা চরম আকারে পৌঁছেছে। বজ্রপাতকে এখনো আলাদা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। আশঙ্কার বিষয় এই যে, বজ্রপাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। প্রতি বছর অন্তত ২০০০ মৃত্যু হয় বজ্রপাতের কারণে। ২০০৫ সাল থেকে বজ্রপাতে ভারতে প্রাণহানির  পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সরকারি হিসেবই বলছে, অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তুলনায় প্রতি বছর এ দেশে বজ্রপাতে বেশি মৃত্যু হয়।

            আতঙ্কের কারণ অবশ্য আরও রয়েছে। জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে। তার জন্য অবশ্য মানুষই অনেকটা দায়ী। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা সায়েন্স-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়, আগামী দিনে বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বজ্রপাতের সংখ্যাও। পৃথিবীর তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে বাজ পড়ার সম্ভাবনা ১২ শতাংশ হারে বেড়ে যাবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

        ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক ও লরেন্স বার্কলে জাতীয় গবেষণাগারের ফ্যাকাল্টি বিজ্ঞানী ডেভিড রম্প বজ্রপাত নিয়ে গবেষণা করছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স’ এ প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে তিনি বলেছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি সম্পর্কযুক্ত। ২০০০ সালে যেখানে বছরের একটি নির্ধারিত সময়ে দুইবার বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, সেখানে এখন ওই একই সময়ে তিনবার বজ্রপাত হচ্ছে। তাঁর হিসেবে, তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের হার বাড়ে ১২ শতাংশ। জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, অত্যধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার, গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন বৃদ্ধির কারণে গোটা বিশ্বেই বজ্রপাত বাড়ছে।

        বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বায়ুদূষণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, মোবাইল-ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছেন। তাছাড়া গ্রামে অধিকাংশ বাড়ি টিনের তৈরি হওয়ায় বজ্রপাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ইদানীং ভবন নির্মাণের সময় বজ্রপাত-সহায়ক স্থাপনার ব্যবহারও কমে এসেছে।

*****************************************
তথ্যসূত্র:
1. https://ebela.in
2. বাংলাদেশ প্রতিদিন
3. https://dailyhunt.in
4. https://www.anandabazar.com
5. www.eisamay.indiatimes.com
6. https://bn.m.wikipedia.org
7. কালের কণ্ঠ


লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Saturday, 27 June 2020

‘চুম্বক পাহাড়’ বা ম্যাগনেটিক হিল - লাদাখ

            লাদাখ। শব্দটি কানে আসতেই মনের অজান্তেই একটি নিজস্ব চিত্র ভেসে আসে। সেই চিত্রের রুপকল্পে আমরা চিরসুন্দর প্রকৃতি থেকে শুরু করে চিরসুখী  মানুষদেরও কল্পনা করি। অবশ্য এই রূপকল্পটা যে খুব একটা অতিরঞ্জিত, তা কিন্তু নয়। মুঘল সম্রাট শাহজাহান একবার বলেছিলেন, পৃথিবীতে যদি স্বর্গ বলে কোনো স্থান থাকে তবে সেটা কাশ্মির। তবে শাহজাহান যদি একবার অন্তত লাদাখ ঘুরে আসতে পারতেন তাহলে নিশ্চিত তার স্বর্গের ঠিকানা পাল্টে যেত। অথবা, এমনও হতে পারে যে তিনি কাশ্মির বলে ওই গোটা অঞ্চলটিকেই বুঝিয়েছিলেন।


            লাদাখ মানেই স্বর্গীয় সৌন্দর্যের রূপকথার দেশ। প্রকৃতি তার সকল সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে এখানে। চিরসুন্দর প্রকৃতি থেকে শুরু করে এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি সবকিছুই যেন এক স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণ। লাদাখের অপার সৌন্দর্যে হারাতে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। স্বর্গীয় সৌন্দর্যের মাঝে প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেন। লেহ লাদাখের প্রতিটি জায়গায়ই রয়েছে সৌন্দর্যের এক অনন্য মাত্রা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাহিরেও এখানে আছে রহস্যময়তা। রহস্যেঘেরা এই জায়গাটিতেই অবস্থিত ‘চুম্বক পাহাড়’ বা ম্যাগনেটিক হিল (Magnetic Hill)।


               পাহাড়টি নিমুর ৭.৫ কিমি. দক্ষিণ-পূর্বে এবং লের শ্রীনগর-লাদাখ রোডের ২৬.৫ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত।শ্রীনগর-লেহ মূল সড়ক দিয়ে গেলে খুব সহজেই এই পাহাড়টি দেখতে পাবেন এবং সড়কটিও এই পাহাড়ের উপর দিয়েই গেছে। চমৎকার সৌন্দর্যের এই সড়কে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষ করতে পারবেন অদ্ভুত এক ব্যাপার। লাদাখের এই পাহাড়কে ‘চুম্বক পাহাড়’ বলে ডাকা হয়। না, এর সেই কিংবদন্তির সামুদ্রিক পাহাড়ের মতো বিধ্বংসী ক্ষমতা নেই। এ যেটা করে থাকে, সেটাও কম আশ্চর্যের নয়। এই পাহাড়ের চূড়ার দিকে যে সড়ক গিয়েছে তা বরাবর গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে যদি কেউ গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে দেন এবং গিয়ারকে নিউট্রাল পজিশনে রাখেন, তবে দেখ যাবে সেই গাড়ি খাড়া রাস্তা বেয়ে নিজে নিজেই চলতে শুরু করেছে। এবং তার গতি নেহাত মন্দ নয়। ২০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা বেগে সেই গাড়ি উপর দিকে ধাবিত হতে থাকবে। এহেন মজার কারণে ‘ম্যাগনেটিক হিল’ আজ একটি জনপ্রিয় পর্যটনক্ষেত্র।

                এই চুম্বক পাহাড় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গল্পকথা চালু রয়েছে। কেউ কেউ এসব ঘটনার মধ্যে ঐশ্বরিক বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাব আছে বলে মনে করে থাকেন। লেহ থেকে কারগিলের সড়ক পথে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়াতে লাদাখ প্রশাসন ওই সড়কটির দুই প্রান্তে বর্তমানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসিয়েছে।
            স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাজধানী লে-র কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,০০০ ফিট উঁচু এই পাহাড়ে রয়েছে তীব্র চৌম্বকশক্তি। তার টানেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে যায় বন্ধ গাড়ি। বাস্তবে কিন্তু ওই পাহাড়ে এমন কোনও চৌম্বকশক্তির অস্তিত্ব নেই। ওই এলাকায় যা ঘটে, তা একেবারেই দৃষ্টিভ্রম। চুম্বক পাহাড় আসলে ভারতের লাদাখের লে-র কাছে অবস্থিত একচক্ষু দৈত্যের মতো দেখতে এক পাহাড়। এই এলাকার বিন্যাস এবং চারপাশের ঢাল একটা পাহাড়ের আলোক-বিভ্রম তৈরি করে। এখানকার পাহাড়ি রাস্তা আসলে একটা নিম্নগামী পাহাড়ি রাস্তা। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধতায় এই রাস্তায় থাকা  বস্তুসমূহ ও গাড়িগুলি ঢালু পথ বেয়ে নামার সময় মনে হয় যেন তারা পাহাড়ের গা বেয়ে উপরের দিকে উঠছে।

তথ্যসূত্র:
1. https://ebela.in
2. https://labanglatimes.com
3. https://dailyhunt.in
4. https://www.anandabazar.com
5. www.eisamay.indiatimes.com
6. https://bn.m.wikipedia.org

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বর্ণরেনুর নদী সুবর্ণরেখা (Subarnarekha River)

সুবর্ণরেখা নদী
উৎস: ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ছোটনাগপুর মালভূমিতে রাঁচির নিকট
অববাহিকা: ঝাড়খণ্ড পশ্চিমবঙ্গ ওড়িশা
মোহনা: বঙ্গোপসাগর
দৈর্ঘ্য: ৩৯৫ কিলোমিটার (২৪৫ মাইল)
অববাহিকার দৈর্ঘ্য : ১৮,৯৫১ বর্গকিলোমিটার  (৭,৩১৭ বর্গ মাইল )
উপনদী :
বাম তীরের উপনদী - ডুলাং।
ডান তীরের উপনদী - কাঞ্চি, খারকাই, Raru River, Garru River


সুবর্ণরেখা নদী রাঁচির কাছে হুডু জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয়ে ঝাড়খন্ডের সিঙভূম জেলার মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা হয়ে ঊড়িষায় প্রবেশ করে। ঊড়িষ্যার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঊড়িষার তালসারি এর কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।এই নদীর মোট দৈর্ঘ্য হল ৩৯৫ কিমি।

সুবর্ণরেখা নদীর গতিপথে  রয়েছে বেশ কয়েকটি উপনদী। এর বাম তীরের উপনদী হল - ডুলাং। ডান তীরের উপনদী গুলি হল - কাঞ্চি, খারকাই, Raru River, Garru River


এই নদীতীরের বালুচরে অনেক সময় স্বর্ণরেনু পাওয়া যায়। সেই কারনে নদীটিকে সুবর্ণরেখা বলা হয়, অর্থাৎ সোনার রেখা।
ঝাড়খণ্ডের সুবর্ণরেখা নদী এর উৎপত্তি রাঁচির পিসকা গ্রাম থেকে। কথিত আছে একসময় নাকি এই গ্রামে সোনার খনি ছিল সেই জন্যই এই নদীর নাম সুবর্ণরেখা আর সেই খনি থেকে সোনা নদীতে মিশে যায়। বর্ষার পর সুবর্ণরেখা জল কমে গেলে তীরে নাকি সোনার টুকরো পরে থাকে এমনও শোনা গেছে। আজও দেখা যায় স্থানীয় মানুষেরা বালি থেকে সোনা খুঁজছেন।
বহু মানুষ নদীর বালি ছেঁকে সোনা অন্বেষন করেন। মূলত এভাবেও অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।

সুবর্ণরেখার ডান তীরের উপনদী খারকাই জামশেদপুরের আদিত্যপুর এর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে এ নদী। মাত্র 37 কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীতে নাকি সোনা পাওয়া যায়। এখানেও স্থানীয় মানুষদের সোনার সন্ধান করতে দেখা যায়। তবে তাদের মতে সারাদিন খোঁজার পর চালের থেকেও ছোট আকারের সোনার টুকরো পাওয়া যায়।

অসংখ্য জাতি, উপজাতি বসবাস করে 'সুবর্ণরেখা' নদীর তীরে তীরে। সোনা সংগ্রহ, মৎস্য আহরণ তাদের উপজীবিকা। রাঁচির কাছে হুডু বা হুড্রু জলপ্রপাতটি অবস্থিত । এখানে প্রতিবছর বহু পর্যটক আসে জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এটি রাঁচি তথা ঝাড়খন্ডের বিখ্যাত একটি পর্যটন কেন্দ্র।
বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হুডু জলপ্রপাত ছাড়াও তামা খনি শহর ও স্বাস্থ্যকর নিবাসের জন্য খ্যাত ঘাটশিলা অঞ্চল 'সুবর্ণরেখা'র তীরে অবস্থিত।ঘাটশিলা অপর একটি পরিচিত পর্যটন স্থান। 'সুবর্ণরেখা'র তীর ঘেঁষে আরও রয়েছে গ্রামীণ ও আদিবাসী জনপদের অকৃতিম বহুবিচিত্র সংস্কৃতি। 

পাণ্ডবদের পিতৃতর্পণের স্মৃতিতে সুবর্ণরেখা তীরে বসে  বালিযাত্রা মেলা। সুবর্ণরেখা নদী যেখানে বাংলা থেকে ওড়িশায় ঢুকেছে সেই সব স্থান থেকে ৬০-৬২ কিলোমিটার দূরে করবনিয়ার মূল বালিযাত্রার স্থানে সকলে আসতে পারেন না বলে নদীর তীরে নানা স্থানে ছোট ছোট বালিযাত্রা মেলা হয়। দাঁতনের গরতপুর, সোনাকানিয়া এবং বেলমূলাতে, কেশিয়াড়ির ভসরাঘাটে এবং ওড়িশার জলেশ্বরের রাজঘাট ও মাকড়িয়ায় সুবর্ণরেখা নদীর তীরে চৈত্র সংক্রান্তির দিনেই বালিযাত্রা মেলা বসে।

তথ্যসূত্র:
1. www.newsg24.com
2. আনন্দবাজার পত্রিকা
3. www.barta24.com
4. www.wikipedia.org

লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য উদ্ভিদ : ছাতিম গাছ( West Bengal State Tree)

        ছাতিম গাছ (ইংরেজি: Blackboard Tree) “অ্যাপোসাইনেসি” বর্গের অন্তর্ভুক্ত একটি উদ্ভিদ  যার বৈজ্ঞানিক নাম:   Alstonia scholaris। পুরাকালে ছাতিমের কাঠ দিয়ে শিশুদের লেখার জন্য তক্তা বানান হত। মনে করা হয় সেই কারণেই বৈজ্ঞানিক নামে “এলস্টোনিআ”-এর পর “স্কলারিস” কথাটি যোগ করা হয়েছে। ছাতিম গাছে সাতটি পাতা এক সঙ্গে থাকে বলে সংস্কৃত ভাষায় একে 'সপ্তপর্ণ' বা 'সপ্তপর্ণা' নামে ডাকা হয়।ছাতিম গাছ হল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য উদ্ভিদ।
        শরতের এ সময়ে গাছজুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। সাদা ফুলে পুরো গাছ ঢেকে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকেই এ গাছের ফুলের ঘ্রাণ ছড়াতে থাকে।


        ছাতিম গাছ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বহুশাখা বিশিষ্ট গাছটির ছাল গন্ধহীন, অসমতল ও ধুসর। ছাতিম পাতার উপরের দিক চকচকে আর তলার দিক ধূসর থাকে।এর শাখা পত্রমূলাবর্ত বিশিষ্ট। ১০ থেকে ১৫ সে. মি. লম্বা পাতা একই মূলাবর্তে ৪ থেকে ৭ টা পর্যন্ত থাকে। শাখার শীর্ষে সবুজ মেশানো সাদা রংয়ে থোকায় থোকায় ক্ষুদ্রাকৃতি ফুল ফোঁটে। ৩০ থেকে ৬০ সে.মি. লম্বা সরু ফল এক বৃন্তে সাধারণতঃ দুটো ক’রে ঝুলে থাকে। ছাতিমের বীজ লম্বাটে ডিম্বাকার, কিনারায় আঁশ থাকে আর শেষ প্রান্তে এক গোছা চুল থাকে। ছাতিম গাছের অভ্যন্তরে দুধের মতন সাদা এবং অত্যন্ত তেতো কষ প্রচুর পরিমাণে থাকে।

        এর আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এই গাছটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র জন্মে। আর্দ্র, কর্দমাক্ত, জলসিক্ত স্থানে ছাতিম বেশি জন্মে। ভারতীয় উপমহাদেশের: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার, পাকিস্তান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: কম্বোডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া-নিউগিনি , ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়ার (কুইন্সল্যান্ড), চীনের (গুয়াংজি, ইউনান) I এছাড়াও অন্যান্য অনেক ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলেও গাছটি পরবর্তীতে বিস্তার লাভ করেছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের 'প্রাদেশিক বৃক্ষ'রূপে ঘোষিত হয়েছে।

        ছাতিমের কষ অনেকে ওষুধরূপে ঘা বা ক্ষতে লাগিয়ে থাকেন। ছাতিম গাছের বাকল বা ছাল শুকিয়ে নিয়ে ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। চর্মরোগেও ছাতিম ফলপ্রদ। স্নায়ুর শক্তিসূত্রে অসাড়তা আনে বলে রক্তের চাপ কমাতে ছাতিম উপকারী।

        ছাতিমের কাঠ দিয়ে খুব সাধারণ মানের আসবাবপত্র, প্যাকিং কেস, চায়ের পেটি, পেনসিল এবং দেশলাইযের কাঠি তৈরী হয়। ছাতিমের হালকা কাঠ দিয়ে শ্রীলংকায় কফিন  বানানো হয়। এছাড়া এটি দিয়ে চামচ, কর্ক ইত্যাদি বানানো হয়।

        এক সময় গ্রামের রাস্তার পাশে, বনে-জঙ্গলে অহরহ এই গাছ থাকলেও বর্তমানে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। দূর থেকে ভেসে আসা সুগন্ধ শুঁকে গাছটিকে খুঁজে নিতে হয়। নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করা বা বসতবাড়ি নির্মাণের ফলে অন্যান্য গাছের সঙ্গে উজার হতে হতে এখন এই ছাতিম গাছ খুব একটা দেখা যায় না।

        পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বাইপাসের দু'দিকে  ছাতিম গাছের বাগান গড়েছিল কেএমডিএ। দূষণ মোকাবিলার জন্যই গাছ লাগানো হয়েছে। সেখান থেকে গাছগুলি চুরি হয়েছে। কিন্তু এই হারে তা চুরি ও নির্বিচারে গাছ কেটে বিক্রি করা হলে সেই উদ্দেশ্য কতখানি সফল হবে, সে ব্যাপারে উঠছে প্রশ্ন।

তথ্যসূত্র:
1) www.eisamay.indiatimes.com
2) www.banglanews24.com
3) www.wikipedia.org


লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বা রাষ্ট্রীয় ফুল শিউলি (West Bengal State Flower)

            শিউলি ফুল বৈজ্ঞানিক নাম: Nyctanthes arbor-tristis) শিউলি নিক্টান্থেস (Nyctanthes) প্রজাতির  একটি ফুল। লাতিন Nyctanthes-এর অর্থ হচ্ছে “সন্ধ্যায় ফোটা” এবং arbor-tristis-এর মানে হচ্ছে “বিষণ্ন গাছ”। শিউলিকে কখনও কখনও "tree of sorrow" বা "দুঃখের বৃক্ষ"-ও বলা হয় কারণ দিনের আলোতে এই ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।

           শিউলি ফুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি, রাজ্য প্রতীক বা রাষ্ট্রীয় ফুল।

        শিউলি ফুলের প্রচলিত নাম গুলি হল -- নাইট ফ্লাওয়ার জেসমিন(Night-flowering Jasmine), হারসিঙ্গার (Harsingar), কোরাল জেসমিন, পারিজাত, শেফালিকা, পারিজাতা, পারিজাতাকা, রাগাপুস্পি, খারাপাত্রাকা, প্রজক্তা।
এটি দক্ষিণ এশিয়ার  দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড  থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল, ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত। এই ফুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  রাজ্য ফুল ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের প্রাদেশিক ফুল।

        শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল  বিশিষ্ট হয় এবং ১০ মিটারের মত লম্বা হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। সুগন্ধি জাতীয় এই ফুলে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা বৃতি ও মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্ত। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। এই ফুল শরৎকালে ফোটে। ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই ফুলকে দুর্গা পূজার আগমনি ফুুলের
মর্যাদা দিয়েছে।

        শিউলি গাছ ও পাতার মধ্যে আছে বহু গুণাগুণ। যা, আমাদের শারীরিক উপকারে লাগে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিউলির নির্যাস সাধারণত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে।ফলে, রোগ প্রতিরোধ হয়। এর পাতা স্বাদে তেতো। এ জন্য পাতার রস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। ঠাণ্ডা ও কাশির জন্যও এ পাতার রস উপকারী। এই পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। এ দুটি উপাদান রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া মাথার খুশকি দূর করতে শিউলির বীজের তেল বেশ উপকারী।

তথ্যসূত্র:
1. www.wikipedia.org
2. www.kalerkantho.com



লেখক:
অয়ন বিশ্বাস
বি.এসসি, এম.এ(ভূগোল), বি. এড্
ঘোড়ালিয়া, শান্তিপুর, নদিয়া।


© GEO HUB (Enhance Your Geo Knowledge) # Ghoralia, Santipur, Nadia, Pin- 741404.
.........................................................................................................
লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সমগ্র বা আংশিক অংশ প্রতিলিপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোন তথ্যের সমগ্র আংশিক ব্যবহার মুদ্রণ বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে (জিংক, টেক, স্ক্যান, পিডিএফ ইত্যাদি) পুনরুৎপাদন করা নিষিদ্ধ। এই শর্ত লঙ্খন করা হলে আইনের সাহায্য নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।